চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ পদত্যাগ করছেন না, সরকার এই মুহূর্তে তাকে সরিয়েও দিচ্ছেন না : বিএসইসি-তে অচলাবস্থা!

চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ পদত্যাগ করছেন না, সরকার এই মুহূর্তে তাকে সরিয়েও দিচ্ছেন না : বিএসইসি-তে অচলাবস্থা!

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০৯ মার্চ, ২০২৫, আপডেট ১৫:৪০

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত বুধবার চার দফা দাবিতে বিএসইসি চেয়ারম্যান ও তিন কমিশনারকে চার ঘণ্টা কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখেন সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরে সেনা হস্তক্ষেপে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে কার্যালয় ত্যাগ করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান ও তিন কমিশনার। ওই দিনই সংস্থাটির বিক্ষুব্ধ কর্মীরা চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদসহ পুরো কমিশনের পদত্যাগের দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। যা ঘিরে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির কেন্দ্রীয় দপ্তরে চলছে অচলাবস্থা।

বিএসইসি অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়ে গত বৃহস্পতিবার অফিসে কাজ বন্ধ রাখে। তবে বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ গণমাধ্যমকে পদত্যাগের কথা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন, কমিশন কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না। বিএসইসি চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের জানান, শেয়ারবাজারে চলমান তদন্তের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সরকার ও প্রশাসনের বিভিন্ন সূত্র থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা গেছে, খন্দকার রাশেদ মাকসুদ পদত্যাগ করছেন না এবং সরকার তাকে সরিয়েও দিচ্ছেন না। তার বিএসইসিতে যোগদান পরবর্তী বিভিন্ন কর্মকাø ও পদক্ষেপে সরকার তার প্রতি আস্থাশীল। গত বছরের ১৮ আগস্ট বর্তমান চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বিএসইসিতে যোগদান করেন। যোগদান পরবর্তী সময়ে পুঁজিবাজার সংস্কারের জন্য তিনি বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, যার মধ্যে টাস্কফোর্স গঠন, পূর্ববর্তী সময়ে বিভিন্ন অনিয়ম, কারসাজি তদন্ত, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দৃশ্যমান ছিলো। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি পুঁজিবাজারের প্রভাবশালী বিনিয়োগকারী আবুল খায়ের হিরু, কাজী ছায়েদুর রহমান, বিমা মিজান, সালমান এফ রহমান, এস আলমসহ অনেকের শেয়ার লেনদেনের বিও একাউন্ট ফ্রিজ করেন।

এছাড়াও বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজের কার্যক্রম নজরদারী ও তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করে এই কমিশন। বর্তমান কমিশন সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো লিমিটেডসহ বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার কারসাজির দায়ে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা জরিমানা করেছে। এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করার ফলে সরকারও তার কাজের প্রতি ইতিবাচক সেটা তার দেয়া বক্তব্যতেই স্পষ্ট।

তবে গত অক্টোবর মাস থেকেই বিভিন্ন বিনিয়োগকারী সংগঠনগুলো তার পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার এবং একাধিকবার অন্দোলনও করেছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এই কমিশনের বিরুদ্ধে বেশকিছু ক্ষোভও আছে। যেমন- বাজারে এখনও আস্থার সংকট। এখনও ইতিবাচক ধারায় পুঁজিবাজার না ফেরা। বাজারে তারল্য সংকট সমাধানের যথাযথ উপায় বের করতে না পারা। জরিমানার অর্থ আদায় করতে না পারা। বাজারে আস্থা সংকট সমাধানের পথ বের করতে না পারা। কমিশনের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো যথাযথভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হওয়া।

এদিকে, বিএসইসি অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন দাবি করেছে, কমিশনের বর্তমান নেতৃত্বের কারণে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া এবং হয়রানি করা হচ্ছে। সংগঠনটি বর্তমান কমিশনকে পদত্যাগ করতে এবং তাদের কর্মকাণ্ডে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে।

ইউডি/এজেএস

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading