ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে মিয়ানমার, ভোগ্যপণ্যের বিনিময়ে আসছে মাদকদ্রব্য!

ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে মিয়ানমার,   ভোগ্যপণ্যের বিনিময়ে আসছে মাদকদ্রব্য!

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৫, আপডেট ১৩:৩০

গৃহযুদ্ধে জর্জরিত মিয়ানমারে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশ ছোঁয়া দাম। বাজারে সরবরাহও অনেক কম। আমদানি করার মতো যথেষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা নেই জান্তা সরকারের হাতে।

মুদ্রার মান এতটাই কমে গেছে যে, যাদের জমানো টাকা ছিল সেগুলো এখন প্রায় কাগজে পরিণত হয়েছে। আর তারই সুযোগে সংঘাতকবলিত মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে বাংলাদেশ থেকে জ্বালানি তেলসহ চাল ও ডালের মতো নানা ভোগ্যপণ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে আর সেখান থেকে আসছে ইয়াবা ও আইসসহ বিভিন্ন মাদক বলে অভিযোগ ওঠেছে।

মূলত সংকটের মুখে দেশটিতে তেলসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দাম বাংলাদেশের তুলনায় ১০ গুণ বেড়ে যাওয়ায় সুযোগ নিচ্ছেন সীমান্তের চোরাকারবারিরা।
দীর্ঘদিন লড়াইয়ে মাধ্যমে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি রাখাইনের কিছু রাজ্য দখলে নেওয়ার পর থেকে সেখানে খাদ্যসংকট শুরু হয়েছে। এই সুযোগে কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের কিছু পাচারকারী চক্র নানা কৌশলে নিত্যপণ্য মিয়ানমারে পাচার করছে, আর সেখান থেকে নিয়ে আসছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য। এতে করে টেকনাফে দাম বেড়েছে ভোজ্যতেলসহ নানা খাদ্যপণ্যের। আর যততত্র মাদকের ছড়াছড়ি।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে বিপুল পরিমাণ খাদ্যপণ্য। বিশেষ করে পবিত্র রমজানের শুরুতে রাখাইনে ভোজ্যতেল, মুড়ি, পেঁয়াজ-রসুন, চিনি, পানীয়সহ অন্যান্য খাদ্যপণ্যের চাহিদা বেশ বেড়ে গেছে।

কেবল খাদ্যপণ্য নয়, ইউরিয়া সার, সিমেন্টসহ গৃহসজ্জার সরঞ্জাম, পেট্রল-অকটেনসহ হাজার হাজার লিটার বিভিন্ন জ্বালানি তেলও পাচার করা হচ্ছে নিয়মিত। এতে জড়িত রয়েছে শক্তিশালী পাচারকারী সিন্ডিকেট। জড়িত রয়েছে অসাধু কিছু দোকানদারও।

বিজিবি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে হোয়াইক্যংয়ের কাটাখালী, উলুবনিয়া, খারাইঙ্গাঘোনা, লম্বাবিল, উনচিপ্রাং, ঝিমংখালী, খারাংখালী, হ্নীলা ইউপির মৌলভীবাজার পূর্বপাড়া, ওয়াব্রাং, লেদা, বরইতলী, বাহারছড়া ইউপির কচ্ছপিয়া, নোয়াখালীপাড়া, সাবরাং ইউপির মাঝের পাড়া, ডাঙ্গর পাড়া, দক্ষিণপাড়া, টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়ার ট্রানজিট জেটি ঘাট, নাইটংপাড়া, দক্ষিণ জালিয়াপাড়া, খায়ুকখালী খালসহ বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে প্রতিরাতে মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে হাজার হাজার টন খাদ্যপণ্য ও নানা সামগ্রী।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানি করা জ্বালানি তেল, ভোজ্যতেলসহ অনেক পণ্য এভাবে পাচার হওয়ায় জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর বিনিময়ে চোরাপথে আসছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র-গোলাবারুদ। যেকোনো মূল্যে চোরাচালান বন্ধ করার দাবি জানান তারা।

জানা গেছে, গত ৭ মার্চ হোয়াইক্যংয়ের উনচিপ্রাং থেকে মিয়ানমারে পাচারের সময় ৯৫ কার্টন বিভিন্ন ধরনের কোমল পানীয়, ৩৮ কার্টন জুস, ১০ কার্টন তরল দুধ এবং ৩০ কেজি ওজনের দুই বস্তা মুড়ি ও চোরাইপণ্য পরিবহণ কাজে ব্যবহৃত দুটি গাড়ি জব্দ করা করা হয়। এসময় নুরুল কবিরের ছেলে গাড়িচালক গিয়াস উদ্দিন (৪০) এবং একই এলাকার নুরুল হাসানের ছেলে ড্রাইভার মোহাম্মদ হোছনকে (৩৪) আটক করা হয়।

চোরাকারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় নুরুল হক মিস্ত্রির ছেলে আব্দুর রহমান ডালিম, ঠান্ডা মিয়ার ছেলে রমজান আলী লেদু,ও মৃত মুহম্মদ হোছনের ছেলে মো. সেলিমসহ পাঁচজনের নামে টেকনাফ মডেল থানায় মামলা করা হয়। এর আগে দুটি অভিযানে ৮০ বস্তা চিনি, ২০ বস্তা মসুর ডাল, ৩০ বস্তা চাল, এক হাজার ৩০০ লিটার তেলসহ অন্যান্য পণ্য উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযানে উদ্ধারকৃত পণ্য পাচারের তুলনায় সিকি ভাগও নয় বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘এটা যেহেতু সীমান্তের বিষয়, এ ব্যাপারে আমি বিজিবিকে অবহিত করব।’

ইউডি/ আরকে

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading