হঠাৎ কেন উত্তাল তুরস্ক, কী হচ্ছে দেশটিতে?
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার (২৩ মার্চ), ২০২৫, আপডেট ২৩:৫৫
তুরস্কের বিভিন্ন শহরে শনিবার (২২ মার্চ) লাখ লাখ মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। বিরোধী দলের একজন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদের গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধেই মূলত এই প্রতিবাদ। সভা-সমাবেশের ওপর উপর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে আসেন এবং এই গ্রেফতারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বর্ণনা করেন। অনেকেই বলছেন, এটি তুরস্কে গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ।
যে রাজনীতিবিদের জন্য মানুষ রাস্তায় নেমেছে তার নাম একরেম ইমামোগলু। তিনি ইস্তাম্বুলের বর্তমান মেয়র এবং তাকে তুরস্কের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের একজন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ইমামোগলুর সমর্থকরা বলছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মূলত তিন বছর পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বাধা দেওয়ার লক্ষ্যেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ বলছেন, এটি শুধু ইমামোগলুর বিষয় নয়, বরং গণতন্ত্র, অর্থনীতি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মতো বড় বিষয় নিয়ে উদ্বেগের মতো বৃহৎ ইস্যু এখানে জড়িত।
গত ১৯ মার্চ ইমামোগলু গ্রেপ্তার হওয়ার পরপরই আন্দোলন শুরু হয়। সেদিন হাজার হাজার মানুষ ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে জড়ো হয়ে তাকে গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করেন। তারপর থেকে প্রতিবাদ চলছে। এরমধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ হয়েছে।
তিনি ইস্তাম্বুলের মেয়র এবং রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) প্রার্থী হিসেবে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান।
৫৩ বছর বয়সী এই নেতা ২০১৯ সালে ইস্তাম্বুলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০২৪ সালে পুনরায় নির্বাচিত হন।
১৯ মার্চ, তুর্কি পুলিশ ইমামোগলুকে ১০০ জনেরও বেশি মানুষের সাথে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।
এর একদিন আগে, ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষাগত ডিগ্রি বাতিল করে। এর ফলে তিনি প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্যও অযোগ্য হয়ে পড়েন। তার ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক এবং মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ছিল।
তিনি উত্তর সাইপ্রাসের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। সেখান থেকে ক্রেডিট ট্রান্সফার করে ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, উত্তর সাইপ্রাসের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থানান্তরের পর তার ডিপ্লোমায় অনিয়ম ছিল।
তার এই ডিগ্রি বাতিলের পদক্ষেপটি এলো সিএইচপি’র ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য প্রার্থী নির্ধারণের মাত্র কয়েকদিন আগে।
ইউডি/এবি

