ইন্ডিয়াকে কাঁপিয়েও ড্রয়ের আফসোস বাংলাদেশের

ইন্ডিয়াকে কাঁপিয়েও ড্রয়ের আফসোস বাংলাদেশের

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, (২৬ মার্চ), ২০২৫, আপডেট ০০:৪০

আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের অভিষেক ম্যাচ খেলতে নেমেই সামর্থ্যের শতভাগ দিয়ে খেলেছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা হামজা দেওয়ান চৌধুরি। অ্যাটাকিং মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগে প্রাণবন্ত ছিলেন প্রথমার্ধে, বিরতির পর ডিফেন্সিভ মিড থেকে শুরু করে সর্বত্রই তার সফল ফর্ম দেখা যায়। অন্যদিকে অবসর ভেঙে ফেরা সুনীল ছেত্রীকে তেমন সুযোগ দেয়নি বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময় শেষে ইন্ডিয়ার মাঠ থেকে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা গোলশূন্য ড্র নিয়ে ফিরছে।

কনকনে বাতাস। ঘাসে জমছিল কুয়াশা। এমন শীতল আবহাওয়ায় জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ইন্ডিয়ান সমর্থকরা কোরাসে ‘ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া’ আওয়াজ তুলে পরিবেশ গরম করেই রাখছিলেন। গ্যালারিতে উত্তেজনা থাকলেও স্বাগতিক ইন্ডিয়া ম্যাচে গোল করতে পারেনি। বাংলাদেশ ইন্ডিয়ার চেয়ে সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে না পারায় গোলশূন্য ড্র হয়েছে।

বাংলাদেশের জার্সিতে বুধ মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) অভিষেক হয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে খেলা হামজা চৌধুরির। নতুন পরিবেশে হামজা প্রথম ম্যাচেই প্রাণবন্ত ছিলেন। যেখানে বল সেখানেই ছুটে গেছেন তিনি। কখনও রক্ষণের দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছেন, আবার কখনও আক্রমণে সহায়তা করেছেন। বাংলাদেশের কর্নারগুলো হামজাই নিয়েছেন। মাঝেমধ্যে হামজার বাড়ানো থ্রু পাস ইন্ডিয়ার রক্ষণে ত্রাসের সৃষ্টি করেছে। প্রতিপক্ষের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে অধিকাংশ সময় হামজাই জিতেছেন। হামজার ট্রেডমার্ক স্লাইডিং ট্যাকেলে নস্যাৎ-ও হয়েছে ইন্ডিয়ার আক্রমণ।

হামজার উজ্জ্বল দিনে নিষ্প্রভ ছিলেন ইন্ডিয়ার কিংবদন্তি ফুটবলার সুনীল ছেত্রী। তিনি বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমাকে তেমন কোনো পরীক্ষায় ফেলতে পারেননি। কয়েক দফা বলের লাগাল পাননি, আবার পেলেও ঠিকমতো টাইমিং করতে পারেননি। তাই ইন্ডিয়ান কোচ মার্কোস ৮১ মিনিটে সুনীলকে তুলে নেন।

ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগটা মিস করেছে বাংলাদেশ। একেবারে খেলার প্রথম মিনিটে ইন্ডিয়ান গোলরক্ষক বিশাল কেইত বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড জনির পায়ে বল তুলে দেন। জনি একেবারে ফাঁকা পোস্ট পেয়েও সাইড জালে শট নেন। কিছুক্ষণ পর হামজার নেওয়া এক কর্নারে ইন্ডিয়ান গোলরক্ষক বিশাল গ্রিপ করলেও শট নেওয়ার সময় বল বাধাগ্রস্ত হয়ে আবার ইন্ডিয়ার পোস্টের দিকে যায়। বাংলাদেশের হৃদয়ের শট ইন্ডিয়ান ডিফেন্ডার গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন। ২২ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যান বাংলাদেশ অধিনায়ক তপু বর্মণ। ফলে আরেক ডিফেন্ডার রহমত মিয়া আর্মব্যান্ড নিয়ে মাঠে নামেন।

প্রথমার্ধে বাংলাদেশ বল পজেশন ও আক্রমণে ইন্ডিয়ার চেয়ে এগিয়ে ছিল। ৪১ মিনিটে গোলরক্ষককে ১:১ পেয়েও বল জালে পাঠাতে পারেননি জনি। ৩১ মিনিটে ইন্ডিয়ান গোলরক্ষকের বাড়ানো বল ধরে দ্রুতগতির আক্রমণে ওঠে দল। ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া ক্রসে ইন্ডিয়ান ফরোয়ার্ডের হেড গোললাইনে সেভ করেন বাংলাদেশের ডিফেন্ডার। ফিরতি বলে ইন্ডিয়ান ফুটবলার জোরালো শট নিতে পারেননি, ফলে সেভ করতে অসুবিধা হয়নি বাংলাদেশি গোলরক্ষক মিতুলের।

দ্বিতীয়ার্ধে দেখা যায় অন্য ইন্ডিয়াকে। খেলার শুরু থেকেই আক্রমণ করতে থাকে স্বাগতিকরা। ৫৫ মিনিটে লিস্টন কোলাসোর ক্রসে সুনীল ছেত্রী মাথা ছোঁয়াতে পারলেই গোল হতে পারতো। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল পরাস্ত ছিলেন। এরপর ভারত একাধিক কর্নার আদায় করে কয়েক মিনিটের মধ্যে। হামজা এই অর্ধে রক্ষণেই বেশি সময় কাটিয়েছেন।

৬০ মিনিটে বাংলাদেশ শাহরিয়ার ইমন ও জনির পরিবর্তে চন্দন রায় ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিমকে নামায়। ৭৫ মিনিটে রাকিবের বাড়ানো বলে ফাহিম বক্সের মধ্যে গোলের সুযোগ পেয়েও মিস করেন। দুই মিনিট পর হ্যাভিয়ের দুই সোহেল রানাকে এক সঙ্গে নামান হৃদয় ও মোরসালিনের জায়গায়। একাধিক খেলোয়াড় পরিবর্তন করলেও ম্যাচের ফল পরিবর্তন করতে পারেননি কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা।

ইউডি/এবি

badhan

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading