বাংলাদেশে ব্যবসা পরিবেশের প্রধান বাধা পাঁচটি: বিশ্ব ব্যাংক
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল), ২০২৫, আপডেট ২২:১৫
বিদ্যুৎ সংকট, অর্থ সহায়তা পাওয়ার কম সুযোগ, দুর্নীতি, অনানুষ্ঠানিক খাত ও বেশি কর হারকে বাংলাদেশের ব্যবসার পরিবেশের জন্য প্রধান পাঁচ বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপ।
বাংলাদেশে অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের পথ তুলে ধরার জন্য তৈরি করা এক প্রতিবেদনে এসব বাধা চিহ্নিত করা হয়।
এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবসার ক্ষেত্রে এসব বাধা প্রতিশ্রুতিশীল ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রবৃদ্ধির সক্ষমতাকে আটকে দিচ্ছে। এর সুযোগ নিয়ে বেশিরভাগ খাতেই কিছু বড় ব্যবসায়ী গ্রুপ আধিপত্য তৈরি করছে।
“আর প্রতিশ্রুতিশীল ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো বড় হওয়ার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে এবং কিছু ছোট দুর্বল প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হয়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে।”
ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত বিনিয়োগ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের সঙ্গে বেসরকারি খাত নিয়ে একটি অধিবেশন ছিল।
এতে ‘কান্ট্রি প্রাইভেট সেক্টর ডায়াগনস্টিক’ (সিপিএসডি) শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন-আইএফসি এর বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপাল অঞ্চলের কান্ট্রি ম্যানেজার মার্টিন হোল্টম্যান।
বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপ মনে করছে, বাংলাদেশ যদি চারটি খাতে জরুরি সংস্কার বাস্তবায়ন করে, তাহলে তা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পারে এবং এর ফলে লক্ষাধিক চাকরি সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বাংলাদেশ প্রতি বছর ২ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন চাকরি সৃষ্টি করতে পারে, যেগুলি নির্মাণ শিল্পের মাধ্যমে নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণে সহায়তা করবে। এছাড়া গৃহস্থালি ও শিল্পখাতে ব্যবহৃত রঙ উৎপাদন সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৬ লাখ ৬৪ হাজারটিরও বেশি আনুষ্ঠানিক চাকরি সৃষ্টি হতে পারে।
এছাড়া ডিজিটাল আর্থিক সেবা খাত সংস্কারের মাধ্যমে ৯৬ হাজার থেকে ৪ লাখ ৬০ হাজার নতুন চাকরি তৈরি হতে পারে বলে এতে তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে।
বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের এই প্রতিবেদনে এমন চারটি খাত চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- পরিবেশসম্মতভাবে তৈরি পোশাক উৎপাদন; মধ্য আয়ের পরিবারের জন্য আবাসন; রঙ উৎপাদন ও ডিজিটাল আর্থিক সেবা-যেখানে নীতিগত পদক্ষেপগুলো বেসরকারি বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে সহায়ক হতে পারে।
ইউডি/এবি

