বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য আরও বাড়তে পারে: বিশ্বব্যাংক
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল), ২০২৫, আপডেট ১৯:৩০
দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের সংকট এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ধীরগতির প্রভাবে বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। বুধবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘চলতি ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৫ সালে দেশের জাতীয় দারিদ্র্যের হার ২২ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা ২০২২ সালে ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ।’
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ‘অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর হার— অর্থাৎ যাদের দৈনিক আয় দুই ডলার ১৫ সেন্টের নিচে, তা দ্বিগুণ হয়ে ৯ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এতে অতিরিক্ত ৩০ লাখ মানুষ অতিদারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’
বিশ্বব্যাংক বলছে, ‘উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের কারণে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক খাতে।’
তবে আশার আলো হিসেবে বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে, ‘২০২৬ সাল থেকে দেশের দারিদ্র্যের হার আবারও হ্রাস পেতে শুরু করতে পারে— যদি অর্থনীতির গতি পুনরুদ্ধার হয় এবং স্থিতিশীল নীতিমালা গ্রহণ করা হয়।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, দারিদ্র্য রোধে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদার করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায়, দেশের অর্জিত উন্নয়ন অগ্রগতি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খাদ্য মূল্যস্ফীতির দীর্ঘস্থায়ী চাপ এবং প্রকৃত মজুরি না বাড়ায় দারিদ্র্য পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।’
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০২৪ সালের দ্বিতীয়ার্ধে দেশের প্রায় ৪ শতাংশ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। স্বল্পদক্ষ শ্রমিকদের মজুরি কমেছে ২ শতাংশ এবং উচ্চদক্ষদের মজুরি হ্রাস পেয়েছে ০.৫ শতাংশ। এমনকি টানা ৪০ মাস ধরে প্রকৃত মজুরি ধারাবাহিকভাবে কমছে। ফলে প্রতি পাঁচটি পরিবারের মধ্যে তিনটি তাদের সঞ্চয় ভেঙে দৈনন্দিন খরচ চালাতে বাধ্য হচ্ছে।’
ইউডি/এবি

