শেরপুরের গারো পাহাড়ে আনারস চাষের নতুন সম্ভাবনা

শেরপুরের গারো পাহাড়ে আনারস চাষের নতুন সম্ভাবনা

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৫, আপডেট ১০:২০

আনারসের রাজধানী মধুপুরের আনারসের রসালো স্বাদ ছড়িয়ে পড়েছে শেরপুরের গারো পাহাড়েও। দেশের উত্তর সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরের গারো পাহাড়ে রসালো আনারসের পরীক্ষামূলক চাষাবাদে সফল হয়ে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে আনারস চাষ।

গতবছর মধুপুরের আনারস চাষি পিটার ডালবট নামে এক গারো আদিবাসী শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের উত্তর বাঁকাকূড়া গ্রামে তার শ্বশুর হালদ্রা সাংমার ৬ একর জমিতে বানিজ্যিক ভাবে এ আনারস চাষ শুরু করেন। প্রথম অবস্থায় একটু চিন্তায় পড়লেও পরবর্তিতে ফলন দেখে আশায় বুক বাঁধেন পিটার।

আনারস যখন পাকা শুরু হয় তখন দেখেন মধুপুরের চেয়ে অনেক বেশি সুস্বাদু ও রসালো হয়েছে। সমস্ত বাগানের রক্ষণাবেক্ষণ, সেচ, সার, পরিচর্যা বাবদ খরচ হয় প্রায় ১১ লাখ টাকা। পুরো বাগানের প্রায় সোয়া লাখ পিস আনারস ১৬ লাখ টাকায় বিক্রিও করেন তিনি। এর পর থেকেই আশপাশের অনেকেই এ বাগান দেখে এবং চাষাবাদের আগ্রহী হয়ে এবার বাণিজ্যিকভাবে চাষ করেছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, শেরপুরের গারো পাহাড়ে কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেছে আনারস চাষ। বন্য হাতির আক্রমণে ধানসহ অন্যান্য ফসলের বারবার ক্ষতির মুখে পড়েন পাহাড়ি এলাকার কৃষকরা। ফলে তারা বিকল্প পথ খুঁজতে গিয়ে এখন ঝুঁকছেন আনারস চাষে। আর জলডুগি জাতের এ আনারস রসালো ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে এ আনারস এখন দেশের বিভিন্ন জেলাতেও রপ্তানি হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা আশরাফুল আলম বলেন, “গতবছর আমি আনারস চাষে লাভবান হয়েছি। এবার আট একর জমিতে দ্বিতীয়বারের মতো আনারস চাষ করেছি। আমি এবার প্রায় দুই লাখ চারা রোপণ করেছি। এতে আমার খরচ হয়েছে প্রায় ১৬ লাখ টাকা। ধান বা অন্যান্য ফসল বন্য হাতির আক্রমণে ধ্বংস হয়ে যায় কিন্তু আনারস তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও লাভজনক। গতবারের মতো এবারও ভালো মুনাফার প্রত্যাশা করছি।”

ঝিনাইগাতী উপজেলার পশ্চিম বাকাকুড়া গ্রামের কৃষক জমশন ম্রং বলেন, “এবার ২০ হাজার আনারসের চারা রোপণ করেছি। এতে আমার খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। তিনি আশাবাদী, এবারও দ্বিগুণ লাভ হবে তার। তার দাবি সামনের বার আরও বড় পরিসরে চাষাবাদ করবেন।”

তিনি আরো বলেন, “সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো আমার আনারস বিক্রির জন্য বাজারে নিতে হয়নি। সব ক্ষেতেই বিক্রি হয়ে গেছে।”

জেলা শহর থেকে আগত কলেজ শিক্ষক মফিদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের জেলায় আনারস চাষ হয় আমি প্রথম দেখলাম। এত মিষ্টি আনারস আমাদের শেরপুরের আমি নিজে খেয়ে না দেখলে বিশ্বাসই করতাম না“ আমি নিজের হাতে বাগান থেকে কেটে খেলাম। মধুর মতো মিষ্টি। আমি চাই আমাদের শেরপুরের গারো পাহাড়ে অনেক অনাবাদি জমি আছে। সেই জমিগুলোতে যেন আরও বড় পরিসরে আনারস চাষ করা হয়।”

কলেজ শিক্ষার্থী সুমন মিয়া বলেন, “আনারসের সাইজ ছোট হলেও মিষ্টি যেন মধুর হাড়ি। বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা এখন সময়ের দাবি। শেরপুরে চাষ হলে আমরা হাতের নাগালে সুমিষ্ট আনারস অল্প দামে পাব। এতে প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় অর্থনৈতিক মুক্তি মিলবে।”

শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “এই অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া আনারস চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ঝিনাইগাতীর সফলতা দেখে এখন নালিতাবাড়ী এবং শ্রীবরদীতেও এই চাষ ছড়িয়ে পড়ছে। তবে বন্য হাতির আক্রমণ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে এই অঞ্চল শিগগিরই দেশের অন্যতম প্রধান আনারস উৎপাদন অঞ্চলে রূপ নিতে পারে।”

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading