টানা পাাঁচদিন ধরে কাশ্মীর সীমান্তে দুই দেশের গোলাগুলি
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৫, আপডেট ১১:১০
কাশ্মীর সীমান্তের নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) বরাবর ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানের সেনাদের মধ্যে টানা ৫ দিন ধরে গোলাগুলি চলছে।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) রাতেও এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে এতে হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। এনিয়ে টানা পাঁচরাত ধরে কাশ্মীর সীমান্তে ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানের সেনাদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটল।খবর এনডিটিভির।
ইন্ডিয়ার গণমাধ্যমে গোলাগুলির বিষয়ে বরাবরের মতো পাকিস্তানকে দোষারোপ করা হলেও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বা দেশটির সংবাদমাধ্যমে এখনও এ বিষয়ে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) বরাবর পঞ্চম রাতের মতো গুলি ছুড়েছে পাকিস্তানি সেনারা। মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) সকালে ইন্ডিয়ার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উসকানির জবাব তারা “সংযত ও কার্যকর” ভাবে দিয়েছে।
এই গোলাগুলি কাশ্মীরের কুপওয়ারা ও বারামুল্লা জেলার বিপরীত এলাকায় এবং আখনূর সেক্টরের কাছে হয়েছে।
ইন্ডিয়ার সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, এপ্রিল ২৮-২৯ রাতের মধ্যে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিনা উসকানিতে এলওসি বরাবর কুপওয়ারা, বারামুল্লা ও আখনূর সেক্টরের বিপরীতে ছোট অস্ত্র দিয়ে গুলি চালায়। ইন্ডিয়ার সেনারা পরিস্থিতির যথাযথ মূল্যায়ন করে সংযত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
পাকিস্তানি সেনারা গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে এলওসি-র বিভিন্ন ইন্ডিয়ার চৌকিতে একাধিকবার গুলিবর্ষণ করেছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এই গোলাগুলির ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন কয়েকদিন আগেই জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন। ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর কাশ্মিরে এটিই সবচেয়ে বড় হামলা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে প্রথমবার কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর দুই দেশের সেনাদের মধ্যে গোলাগুলি হয়। সম্প্রতি অধিকৃত কাশ্মিরে পর্যটকদের ওপর বন্দুকধারীদের হামলার জেরে ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
এদিকে পেহেলগামের ভয়াবহ ওই হামলার জেরে ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে।
দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত করেছে ইন্ডিয়া। জবাবে সিমলা চুক্তি স্থগিত ও ইন্ডিয়ার বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দেয় পাকিস্তান।
তাছাড়া, হামলার পরে দুই দেশই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেশী দেশের নাগরিকদের ভিসা বাতিল করে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এতে ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানের নাগরিকেরা নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে শুরু করেন।
ইউডি/কেএস

