রাখাইনে মানবিক সহায়তা পাঠাতে দু’দেশেরই ‘অনুমতি লাগবে’: জাতিসংঘ

রাখাইনে মানবিক সহায়তা পাঠাতে দু’দেশেরই ‘অনুমতি লাগবে’: জাতিসংঘ

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার (৩০ এপ্রিল), ২০২৫, আপডেট ২৩:৫০

রাখাইনে মানবিক সহায়তা নেওয়ার পথ তৈরির ক্ষেত্রে জাতিসংঘ যদি জড়িত হয়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের অনুমতির প্রয়োজন হবে বলে বৈশ্বিক সংস্থাটির ঢাকা কার্যালয়।

বুধবার এক বার্তায় ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর এক মুখপাত্র বলেছেন, “আন্তঃসীমান্ত সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর অনুমোদন নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা জাতিসংঘের রয়েছে। এটা ছাড়া জাতিসংঘের সরাসরি সম্পৃক্ততা সীমিত।”

মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত রাখাইনে সহায়তা পাঠাতে বাংলাদেশের ‘মানবিক করিডোর’ হওয়ার নিয়ে বিতর্কের মধ্যে এ প্রতিক্রিয়া জানাল জাতিসংঘ।

ওই বার্তায় আরও বলা হয়, বাংলাদেশের জাতিসংঘ বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা কার্যক্রম এবং রাখাইনে বাজে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ অব্যাহত রাখছে।

“রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয়দাতা হিসাবে বাংলাদেশ যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পেতে থাকে, সে মানবিক সহযোগীদের নিয়ে কাজ অব্যাহত রাখবে জাতিসংঘ।”

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের ঢাকা সফরের পর গত ৮ এপ্রিল বাংলাদেশের ‘মানবিক সহায়তা চ্যানেল’ বিষয়ে প্রথম ধারণা দেন প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ খলিলুর রহমান।

৭ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে আলোচনায় ‘হিউম্যানিটারিয়ান চ্যানেলে’ বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার বিষয় প্রথম আসার কথা তুলে ধরে ওইদিন এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, আরাকান আর্মি, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মিয়ানমার সরকার- সবার সঙ্গে আলোচনা করেই জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে গিয়েছিলেন তিনি।

“তাকে আমরা বলেছি, রাখাইনে যে মানবিক সমস্যা, যে সংকট সেটা মোকাবেলার জন্য আন্তর্জাতিক সাহায্যের বিকল্প নাই। সেই কাজটি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানেই হবে।”

মানবিক সহায়তা পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিকল্প না থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ হচ্ছে একমাত্র চ্যানেল, যার মাধ্যমে এটা করা সম্ভব। কারণ, রাখাইনের উপকূল এখনও তাতমাদোর দখলে এবং অন্যান্য জায়গা দিয়ে সহজে ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব নয়।”

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের সঙ্গে ওই সংবাদ সম্মেলনে খলিলুর রহমান বলেন, আইনি কারণে এটাকে ‘করিডোর’ না বলে ‘চ্যানেল’ বলা হচ্ছে।

ইউডি/এবি

badhan

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading