‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীরা যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে কাজ করবে’

‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীরা যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে কাজ করবে’

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০১ মে, ২০২৫, আপডেট ১৫:২০

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের প্রতিপক্ষরা অপবাদ ছড়ায়, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে নারীদের কাজ করতে দেবে না, ঘর থেকে বের হতে দেবে না। আমরা বোনদের নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে চাই, নারীরা তাদের যোগ্যতা ও পছন্দ অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে কাজ করবে।

তিনি বলেন, আজকে দেশে তাদের সম্মান, মর্যাদা, নিরাপত্তা নেই। আমরা ক্ষমতায় গেলে এই রাষ্ট্রে তাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা জামায়াত নিশ্চিত করবে ইনশাল্লাহ।

বৃহস্পতিবার (১ মে) আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে তিনি এ কথা করেন।

জামায়াত আমির বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ শ্রমজীবী। তাদের অধিকার উপেক্ষা করে কোনো সমাজ-দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। এই কাঙ্ক্ষিত সমাজ ব্যবস্থা গড়তে হলে পারস্পরিক সম্মান-শ্রদ্ধা-ভালোবাসা দিয়েই গড়তে হবে।

নারী পুরুষ সবাই মিলে স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে দেশের উন্নয়নে ও স্থিতিশীল গতিশীলতার জন্য, সাম্যের সমাজ গড়ার জন্য আমরা কাজ করবো। এই চেষ্টা সেদিনই আমাদের থামবে, যখন ঘরে ঘরে সুখ শান্তি আসবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন জায়গায় যারা উদ্যোক্তা তারা বিভিন্নভাবে তাদের শ্রমিক সহকর্মী ও কর্মচারীদের উপযুক্ত মূল্যায়ন করেন না, শ্রমের মর্যাদা দেন না, কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করেন না। আবার তারা যেমন শ্রমিকদের নির্যাতন করেন, তেমনি আবার তারা চাঁদাবাজদের হাতে নির্যাতিত হন। চাঁদাবাজরা নানারূপ নিয়ে হাজির হয়। চাঁদাবাজরা দিবস পালনের নামে এমনকি আজকের দিবসটি নিয়েও তারা হাজির হয়েছে। এই দ্বন্দ্ব কতোদিন চলবে?

‘আমরা চাই মালিকপক্ষ এটা বুঝবে। শ্রমিক বাঁচলে আমার শিল্প বাঁচবে, শ্রমিকও বাঁচবে। শ্রমিক না বাঁচলে শিল্প বাঁচে না। আবার শ্রমিকদেরও বুঝতে হবে উদ্যোক্তা-মালিক-শিল্পপতিরা যদি বাঁচে তাহলে সে নিজেও বাঁচবে। কারণ কর্মস্থলই যদি ধ্বংস হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে দাবিটা উত্থাপন করবো কার কাছে? সেজন্য শ্রমিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

জামায়াতের এ শীর্ষ নেতা বলেন, সত্যিকার অর্থে আমরা যদি টেকসই শান্তির বাংলাদেশ গড়তে চাই, তাহলে পরস্পরকে হাতে হাত রেখে সম্মান ও ভালোবাসা দিয়ে সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। যেদিন মালিকরা শ্রমিকদের দরদ দিয়ে মন দিয়ে ভালোবাসা সম্মান দেবেন, তারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, শ্রমিকরা ষোলআনা শক্তি উজাড় করে মালিকের পক্ষেই থাকবে। আবার শ্রমিক যদি মনে করে না, আমার মালিক আমাকে মানুষই মনে করে না, তাহলে সে আর দায়িত্ব নিয়ে কিছু করবে না। এক্ষেত্রে উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবো। এজন্য শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কাজই হলো মালিক ও শ্রমিকের সমন্বয়ে দরদি ও পারস্পরিক সম্মানের সমাজ গড়তে চায়।

তিনি বলেন, আমরা মানুষের মধ্যে বৈষম্য দেখতে চাই না। কর্ম বা পেশাগত জীবন নিয়ে বিবেচনা করতে চাই না। মানুষ মাত্রই আশরাফুল মাখলুকাত। দল মত ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে আমরা মানুষকে সম্মান জানাতে চাই। এরকমই একটা বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে রাসূল (সা.) এর শাসনের মতোই শাসন কায়েম হবে।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি সাবেক এমপি মাওলানা আনম শামসুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমির সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading