কর অব্যাহতির ক্ষমতা এনবিআরের থাকছে না
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার (০৮ মে), ২০২৫, আপডেট ২২:৩০
শিল্প খাতে করছাড় বা অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে আর থাকছে না। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দেওয়া শর্ত মেনে আসছে অর্থবছরের প্রথম দিন থেকে সেই ক্ষমতা বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা যাচ্ছে জাতীয় সংসদের কাছে।
নতুন ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে শুধু জাতীয় সংসদের মাধ্যমেই করছাড় বা অব্যাহতি দেওয়া যাবে; সংসদ না থাকলে তখন রাষ্ট্রপতির হাতে এ ক্ষমতা থাকবে বলে প্রস্তাবে বলা হয়েছে।
বুধবার এনবিআর প্রকাশিত ‘কর ব্যয় নীতিমালা এবং এর ব্যবস্থাপনা কাঠামোতে’ এমন বিধি চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ নীতিমালা ও কাঠামোর আইনগত রূপ দিতে কর ব্যয়সংশ্লিষ্ট বিধানগুলো অর্থবিলের সঙ্গে অনুমোদনের প্রদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে দেশের প্রধান রাজস্ব আদায়কারী সংস্থাটি।
কর্মকর্তারা বলেন, এখন সংসদ না থাকায় তা ‘সংশ্লিষ্ট কর আইনগুলোয়’ অন্তর্ভুক্ত করতে অধ্যাদেশ আকারে জারির পদক্ষেপ নেবে অন্তর্বর্তী সরকার।
ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থে এনবিআরের নীতি নির্ধারক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘সুবিধা নিয়ে’ কর অব্যাহতি দেওয়ার সমালোচনা দীর্ঘদিন থেকে কর আসছিলেন অর্থনীতিবিদরা।
আইএমএফও চলমান ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তির আওতায় এনবিআর কী পরিমাণ কর ব্যয় বা অব্যাহতি ও করছাড় দিয়ে থাকে তা বিশ্লেষণ করতে বলেছে। সেটির নিরিখে একটি কাঠামো তৈরির শর্ত জুড়ে দেয়।
এরপর এনবিআর এর আগের কয়েক অর্থবছরের কর ব্যয় বিশ্লেষণ করেছে। এবার এসে কর ব্যয়ের নীতিমালা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কাঠামো প্রকাশ করল, যা আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকরের প্রস্তাব করেছে।
নতুন নীতিমালায় কর ব্যয় অনুমোদনের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, বর্তমান আয়কর আইন, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন এবং কাস্টমস আইনের মাধ্যমে এনবিআরকে দেওয়া কর অব্যাহতির ‘সব ক্ষমতা রহিত করা হবে’। বার্ষিক জাতীয় বাজেট প্রণয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কর আইনসংশ্লিষ্ট যেকোনো ‘কর ব্যয় অনুমোদনের চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ হবে জাতীয় সংসদ’। সংসদ না থাকলে কর ব্যয়সংক্রান্ত বিধান জারির ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির কাছে ন্যস্ত থাকবে।
ইউডি/এবি

