পাকিস্তানের হামলা ঠেকানোর দাবি ইন্ডিয়ার

পাকিস্তানের হামলা ঠেকানোর দাবি ইন্ডিয়ার

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ০৯ মে, ২০২৫, আপডেট ০২:১২

কাশ্মীরের জম্মু ও উদহামপুর এবং পাঞ্জাবের পাঠানকোটে ভারতীয় সেনাবাহিনীর তিনটি অবস্থান লক্ষ্য করে পাকিস্তান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়েছিল এবং এগুলো মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইন্ডিয়া। বৃহস্পতিবার এই হামলা চালানো হয়। খবর দ্য হিন্দু’র।

 বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর কাশ্মীরে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই এলাকা বিদ্যুৎ–বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন রয়টার্সের একজন সাংবাদিক। তিনি বলেন, সাইরেন বাজার পাশাপাশি জম্মুর আকাশে লাল শিখা ও ‘প্রজেক্টাইল’ দেখা যায়। সে সময় নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ইন্ডিয়ার একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছিলেন, জম্মুর বেশ কয়েক জায়গা এবং পাশের শহর আখনুর, সাম্বা ও কাঠুয়ায় হামলা হয়েছে। তখন একাধিক প্রতিরক্ষাসূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর খবরে বলা হয়, পাকিস্তান থেকে ছোড়া আটটি ক্ষেপণাস্ত্র নিশানায় আঘাত হানার আগেই মাঝ আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের জম্মুর সাতওয়ারি, সাম্বা, আরএস পুরা ও আরনিয়ার দিকে ছোড়া হয়েছিল। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করে সেগুলো মাঝ আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে।

পরে বিবিসি লাইভে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি বিবৃতির উল্লেখ করা হয়। এতে ইন্ডিয়ার সেনাবাহিনী বলেছে, কাশ্মীরের জম্মু ও উদহামপুর এবং পাঞ্জাব জেলার পাঠানকোটে ইন্ডিয়ান সেনাবাহিনীর তিনটি অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে পাকিস্তান। এসব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে হামলার কথা অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। দেশটির সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্ডিয়ার জম্মুতে হামলার যে খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম প্রচার করেছে, তা ‘ভুয়া ও মিথ্যা’। পাকিস্তানের কয়েকটি নিরাপত্তাসূত্র এই দাবি করেছে। সূত্রগুলোর বরাতে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম পিটিভি নিউজ এই খবর প্রচার করেছে।

পিটিভি এক্সে একটি পোস্ট দিয়েছে। এতে নিরাপত্তাসূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ‘ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে কাশ্মীরে হামলার যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়া ও মিথ্যা।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই ভুয়া খবর ছড়ানোর উদ্দেশ্য হলো এই ভ্রান্ত ও ব্যর্থ ধারণা তৈরি করা যে পাকিস্তানও ভারতের ওপর হামলা চালাচ্ছে।’

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও এই হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি রাতে বিবিসিকে বলেছেন, পাকিস্তান যখন হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেবে, তখন সারা বিশ্ব তা জানবে।

এই হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পাকিস্তানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে চলমান বেপরোয়া অপপ্রচারের অংশ।

অবশ্য কাশ্মীরের অবস্থা ‘খুবই উদ্বেগজনক’ বলে জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি জানিয়েছেন। তিনি এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘জম্মুর জনগণ, বিশেষ করে যাঁরা সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাস করেন, তাঁদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।’

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাশ্মীরে শুক্রবার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলে সেখানকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াদিল্লি দাবি করে, বুধবার রাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ইন্ডিয়ায় হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল পাকিস্তান। তারা আরও দাবি করে, তাদের হামলায় লাহোরে পাকিস্তানের একটি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে।
ইসলামাবাদ পাল্টা দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে পাকিস্তানে ২৯টি (আগে বলা হয়েছিল ২৫টি) ড্রোন পাঠিয়েছিল ভারত, যার সবগুলোই ধ্বংস করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাত একটার পর পাকিস্তানের ছয়টি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ভারত। তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে পাকিস্তান। এরপর থেকে কাশ্মীর সীমান্তে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে চলে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মঙ্গলবার রাতের হামলায় নারী-শিশুসহ ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ৫৭ জন আহত হন। অন্যদিকে ভারতের সেনাবাহিনীর তথ্য অনুসারে, হামলার পর থেকে সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর গোলাবর্ষণে ১৬ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪৩ জন। গোলার আঘাতে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্যও নিহত হয়েছেন।

ইউডি/ এসআই

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading