সীমান্তে পুশ-ইন চাপ, ফের এলো ৯৭ জন
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার (২৩ মে) ২০২৫, আপডেট ০২:০০
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বাংলাদেশ সীমান্তে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বিএসএফ। ভারতের এই সীমান্তরক্ষী বাহিনী মাঝেমধ্যে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে মানুষ পুশইন করছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় জনতার প্রতিরোধের মুখে তারা কৌশল পরিবর্তন করেছে। এখন তারা রাতের আঁধারে ভারত থেকে মানুষ বাংলাদেশ সীমান্তে ছেড়ে যাচ্ছে। গত বুধবার রাতে কুমিল্লা, ফেনী, খাগড়াছড়ি, লালমনিরহাট ও পঞ্চগড় সীমান্ত দিয়ে অন্তত ৯৭ জনকে এ দেশে পাঠিয়েছে তারা।
বিজিবির কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ বলেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় বিজিবির টহলদল ৫২ জনকে আটক করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, বিএসএফ তাদেরকে বাংলাদেশে পুশইন করেছে। বর্তমানে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে। তবে আটক হওয়ারা বাংলাদেশি। তারা বিজিবি’র হেফাজতে রয়েছেন এবং যাচাই-বাছাই শেষে তাদেরকে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে, খাগড়াছড়ির রামগড় সীমান্ত দিয়ে শিশুসহ পাঁচজনকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বৃহস্পতিবার তাদের পুশইন করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানান, তারা ভারতের হরিয়ানার বাসিন্দা এবং সেখানে একটি ইট-ভাটায় কাজ করতেন। রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ইসমত জাহান তুহিন বলেন, পাঁচজনকে সাময়িকভাবে রামগড় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিজিবি, উপজেলা প্রশাসন ও রামগড় থানা সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ২০ জনকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এর মধ্যে ৯ জন নারী ও সাত শিশু ও দুজন পুরুষ রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রহমতপুর ধবলসতী গাটিয়ারভিটা সীমান্তের প্রধান পিলার ৮২৫ নম্বরের ১ নম্বর এবং শ্রীরামপুর ইউনিয়নের সীমান্তে বাজার এলাকায় দিয়ে তাদেরকে ভারতীয় গেট দিয়ে পাঠানো হয় বাংলাদেশে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিবির ধবলসুতী ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার আব্দুল মতিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাটিয়ারভিটা ও শ্রীরামপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইন হয়ে দেশে ঢোকার পর তারা হেঁটে পাটগ্রামের দিকে যেতে শুরু করেন। তবে স্থানীয় নতুন বাজার ঐ সীমান্তে বাজার পৌঁছালে বাজারের লোকজনের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদ করলে ভারত থেকে পাঠানো হয়েছে বলে তারা স্বীকার করেন। পরে বিজিবিকে খবর দেন স্থানীয়রা। বিজিবি তাদের নিয়ে যায়। পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, দুই সীমান্ত থেকে মোট ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। তারা বাংলাদেশের নাগরিক। তবে দীর্ঘদিন থেকে ভারতে বসবাস করতেন। বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে সুন্দর করা হবে।
অন্যদিকে, পঞ্চগড়র সদরের জয়ধরভাঙ্গা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ২১ জনকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ। বুধবার গভীর রাতে পুশইনের এ ঘটনাটি ঘটে। পরে বিজিবির টহল দল রাতে সীমান্তে তাদের দেখতে পেয়ে আটক করে বলে জানিয়েছে নীলফামারী-৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক শেখ মোহাম্মদ বদরুদোজা। আটককৃতদের মধ্যে ৬ জন নারী, ২ জন পুরুষসহ ১৩টি শিশু রয়েছে। তারা বাংলাদেশি। তারা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের গুজরাট এলাকায় বসবাস করে আসছিল। ২১ মে ভারতীয় পুলিশ তাদের গুজরাট এলাকায় আটক করে বিমানযোগে কলকাতা নিয়ে আসে। এর পর কলকাতা থেকে বাসযোগে এসে ভারতের ৯৩/টিয়াপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পের নিকট হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে টিয়াপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদেরকে রাতের বেলা গেট দিয়ে বের করে সীমান্ত পিলার ৭৫৭/১০-এসের কাছ দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করে। বিজিবি জানিয়েছে, পুশইনের ঘটনায় বিএসএফের সাথে পতাকা বৈঠক করা হচ্ছে। একই সাথে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বর্তমানে বিজিবির হেফাজতে রয়েছে আটককৃতরা।
ইউডি/ এসআই

