ঈদুল আজহা ঘিরে পুলিশের একগুচ্ছ নিরাপত্তা পরামর্শ

ঈদুল আজহা ঘিরে পুলিশের একগুচ্ছ নিরাপত্তা পরামর্শ

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ৩০ মে, ২০২৫, আপডেট ১১:৫০

পবিত্র ঈদুল আজহা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির ব্যাপারে সতর্ক এবং অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার খেতে বারণ করা হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও স্টিমারের ছাদে এবং ট্রাক, পিকআপ ও অন্য পণ্যবাহী যানবাহনে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।

পুলিশ সদরদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাড়ি যাওয়ার জন্য ঈদের আগে ও পরে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ভ্রমণ পরিকল্পনা করতে হবে। এতে ট্রেন, বাস, লঞ্চ ও ফেরিঘাটের শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়ানো সহজ হবে। হাইওয়েতে নছিমন, করিমন, ভটভটি ইত্যাদি যানবাহনে চলাচল করবেন না। চালককে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর তাগিদ দেবেন না। বরং চালক যেন নিয়ম মেনে গাড়ি চালায় এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং না করে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। অপেশাদার, ক্লান্ত বা অসুস্থ চালক যাতে গাড়ি না চালায়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। দুর্ঘটনাকবলিত নৌযান শনাক্তের সুবিধার্থে নৌযানগুলোয় ১০০ থেকে ১৫০ ফুট লম্বা দড়ি সংবলিত বয়া এবং লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা রাখতে হবে মালিকদের। হাইওয়েতে ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি চলাচল করা যাবে না। যাত্রাপথে অপরিচিত কারও সঙ্গে যানবাহনে শেয়ারে চড়া যাবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হকার বা ফেরিওয়ালার কাছ থেকে কোমল পানীয়, ডাব, শরবত বা অন্য কোনো খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কাউকে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি বা প্রতারক চক্রের সদস্য সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দিতে হবে বা ৯৯৯ নম্বরে কল করতে হবে। সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে আশপাশের যাত্রীদের প্রতি। কেউ বিপদে পড়লে তাকে সাহায্য করতে হবে।

কোরবানির পশু পরিবহন ও হাট সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ট্রাক, লঞ্চ, নৌকা বা ট্রলারে অতিরিক্ত পশুবোঝাই করা থেকে বিরত থাকতে হবে। মহাসড়কের ওপর এবং রেললাইনের পাশে কোরবানির পশুর হাট বসানো যাবে না। পশুর হাটে কেউ অতিরিক্ত হাসিল অথবা চাঁদা দাবি করলে পুলিশকে জানাতে হবে। পশুর চামড়াবাহী যানবাহন সীমান্তমুখী হলে সেগুলো পাচার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ ধরনের সন্দেহজনক ক্ষেত্রে বিষয়টি স্থানীয় পুলিশকে জানাতে হবে অথবা ৯৯৯ নম্বরে কল করতে হবে। পশুবাহী পরিবহনের সামনে পশুর গন্তব্যস্থান অথবা পশুর হাটের নাম লিখে ব্যানার টানিয়ে রাখতে হবে। পশুর হাটে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হবে ব্যাংকিং চ্যানেল। বড় অঙ্কের নগদ অর্থ বহনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা (মানি এস্কর্ট) নিতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে জাল টাকার বিষয়ে। কোনো নোট জাল সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানাতে হবে।

এ ছাড়া বিকাশ, রকেট, ইউক্যাশ, নগদ ইত্যাদিতে লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নিজের গোপন পিন নম্বর কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না। শপিংমল বা মার্কেটের নিরাপত্তায় সিসিটিভি, আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টরসহ অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশ সদরদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ– ০১৩২০০০১৩০০, ০১৩২০০০১২৯৯; হাইওয়ে পুলিশ সদরদপ্তর (০১৩২০১৮২৫৯৮), রেলওয়ে পুলিশ সদরদপ্তর (০১৩২০১৭৭৫৯৮), নৌ পুলিশ সদরদপ্তর (০১৩২০১৬৯৫৯৮) ও র‍্যাব (০১৭৭৭৭২০০২৯) এবং জেলা পুলিশ সুপার ও থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading