ষোড়শ সংশোধনী ছিল ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’, রিভিউয়ের রায় প্রকাশ
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার (৬ জুন), ২০২৫, আপডেট ০৯:৩০
‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আইন’ ছিল বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৫০ পাতার এ রায় প্রকাশিত হয়।
এর আগে আপিল বিভাগের রায়ের রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন নিষ্পত্তি করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির বেঞ্চ সর্ব সম্মতিক্রমে গত বছরের ২০ অক্টোবর এ রায় দেন।
রায়ে পৃথক পর্যবেক্ষণসহ সর্বসম্মতিক্রমে দেওয়ানি রিভিউ আবেদনটি নিষ্পত্তি করা হয়। ফলস্বরূপ, সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সম্পূর্ণরূপে পুনর্বহাল করা হয়। এই রায়ের মাধ্যমে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রধান বিচারপতিসহ রায় প্রদানকারী অন্য বিচারপতিরা হলেন— বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস. এম ইমদাদুল হক।
এ মামলায় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল জব্বার ভূইয়া, আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক। রিটের পক্ষে ছিলেন মনজিল মোরসেদ। অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে ছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, ‘এই রিভিউ আবেদনে উত্থাপিত বিষয়বস্তুর মধ্যে একটি সাধারণ বিষয়ও রয়েছে। যার মধ্যে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের কর্তৃত্ব অব্যাহত রয়েছে। যেমন- প্রয়োজনে বিচারকদের আচরণবিধির মূল্যায়ন ও সংশোধন করা। ৯৬ অনুচ্ছেদের বর্তমানে পুর্নবহাল করা ধারা (৪) (ক) এর অধীনে বিবেচনা করা এই বিষয়টি সর্বাগ্রে একটি অপরিহার্য উপাদান। প্রকৃতপক্ষে, সংবিধানে বিচারিক আচরণের সাংবিধানিকতা, যা নিজেই একটি জীবন্ত দলিল এবং তা চিরস্থায়ী পুনঃউদ্ভাবনের অনুমতি দেয়।’
‘এটাও ঠিক যে, সংবিধানের মূল চেতনা এবং সংবিধানের অক্ষর এই ধরনের বর্ণনার বাইরেও প্রাধান্য লাভ করে। অন্যথায়, সংবিধান নিজেই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করলে আচরণবিধিকে শুধুমাত্র সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের অন্তর্নিহিত ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে বৃদ্ধি এবং পরিবর্তনের অনুমতি দেওয়ার জন্য বিবেচনা করা উচিত— যা প্রয়োজনে বিদ্যমান বিধানগুলোও পুনর্বিবেচনা করতে পারে।’
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সম্পূর্ণরূপে পুনরুজ্জীবিত করা হলো। এই রিভিউ আবেদনটি উপরোক্ত পর্যবেক্ষণের সঙ্গে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তবে যেকোনও বিভ্রান্তি দূর করার জন্য এবং বিতর্কিত রায়ের কার্যকরী অংশের কার্যকারিতায় প্রয়োজনীয় অস্পষ্টতা এবং বিরোধ দূর করার জন্য, ৯৬ অনুচ্ছেদের ২-৮ ধারাগুলি সম্পূর্ণরূপে পুনর্বহাল করার ঘোষণা করা হলো।’
ইউডি/এবি

