হানিফ ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে ৯০০ কোটি টাকার লেনদেন
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫, আপডেট ০৮:০০
অবৈধ সম্পদ অর্জন, ব্যাংকে সন্দেহজনক ও অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক এমপি আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুল আলম হানিফ ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের ব্যাংক হিসাবে ৯০০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন পেয়েছে দুদক।
সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. সাইদুজ্জামান বাদী হয়ে কমিশনের ঢাকা-১ কার্যালয়ে দুটি মামলা করেন। একই দিন হানিফের দুই ছেলে ও এক মেয়ের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ জারি করা হয়েছে। নোটিশগুলো তাদের নিজ নিজ বাসার ঠিকানায় পাঠানো হবে।
দুদকের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে কমিশনের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, অনুসন্ধানে পাওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এজাহার দু’টিতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হানিফ ও তাঁর স্ত্রী ফৌজিয়া আলমের নামে ৩৪টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনেদেনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, যা অস্বাভাবিক।
হানিফের বিরুদ্ধে ২৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অনুসন্ধানকালে এসব সম্পদের বৈধ উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি। হানিফ ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ১৮টি ব্যাংক হিসাবে ৮৬৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের হিসাব উল্লেখ করা হয়েছে এহাজারে। ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে এ টাকা অর্জনের কথাও এজাহারে বলা হয়। হানিফ ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়।
স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা
হানিফের স্ত্রী ফৌজিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলায় পরস্পর যোগসাজশে ৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলায় স্বামী হানিফকেও আসামি করা হয়েছে। তাঁর নামে ১৬টি ব্যাংক হিসাবে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত ৩৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুই ছেলে ও এক মেয়ের বিরুদ্ধে সম্পদের নোটিশ জারি
আওয়ামী লীগ নেতা হানিফের বড় ছেলে ফাহিম আফসার আলম ও ছোট ছেলে ফারহান সাদিক আলমের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব চেয়ে কমিশন নোটিশ জারি করেছে। সেই সঙ্গে মেয়ে তানিশা আলমের যাবতীয় সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ জারি করা হয়।
ইউডি/কেএস

