চট্টগ্রাম বন্দরে ৬ হাজারের বেশি কন্টেইনার নিলামে বিক্রির উদ্যোগ
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৫, আপডেট ০৯:২০
চট্টগ্রাম বন্দরে বহুবছর ধরে পড়ে থাকা ৬ হাজারের বেশি কন্টেইনার নিলামে বিক্রির মাধ্যমে জট কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে কাস্টমস।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম বন্দরের কনফারেন্স রুমে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা ৬০৬৯টি কন্টেইনার নিলামের মাধ্যমে বিক্রয় কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা বিপুল পরিমাণ কন্টেইনার দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিলামে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে আইনগত জটিলতা দূর করার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি বিশেষ আদেশ জারি করেছে। উক্ত বিশেষ আদেশ অনুযায়ী প্রথম নিলামের সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে নিলাম পণ্য হস্তান্তর করার বিধান করা হয়েছে। এতে বার বার নিলাম ডাকার প্রয়োজন হবে না এবং প্রথম নিলামেই দ্রুততম সময়ে বন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা পণ্য অপসারণ করা সম্ভব হবে।
ইতোমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে নিয়োজিত ৭৯ জন কর্মকর্তা বিগত ৬ মাস ধরে নিরলসভাবে কাজ করে চট্টগ্রাম বন্দরের দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ৫১৪৩টি কন্টেইনারের ইনভেন্টরি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। অবশিষ্ট ৯২৬টি কন্টেইনার আগামী অক্টোবরের মধ্যে ইনভেন্টরি কার্যক্রম সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া ৬০৬৯টি কন্টেইনারের মধ্যে ৫২৫০টি আগামী বছরের জুনের মধ্যে নিলামের মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে যা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়েছে। এ নিলাম কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকবে।
নিয়মিতভাবে নিলাম কাজ পরিচালনা করার মাধ্যমে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যমান কন্টেইনার জট নিরসন করবে এবং ভবিষ্যতে বন্দরে অহেতুক কন্টেইনার জট সৃষ্টি না হওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে এনবিআর চেয়ারম্যান পুনরায় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
চট্টগ্রাম বন্দর কন্টেইনার জটমুক্ত থাকলে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, বন্দরে অপেক্ষাকাল কমবে, আমদানি-রপ্তানিকারকদের খরচ কমবে এবং পণ্যের দাম কমার মাধ্যমে দেশের আপামর জনগণ উপকৃত হবেন।
স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা বিপুল সংখ্যক কন্টেইনারের ইনভেন্টরি সম্পাদন করে নিলাম প্রক্রিয়া শুরু করার কাজে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস যে আন্তরিকতা দেখিয়েছে তার জন্য সন্তোষ প্রকাশ করে নৌপরিবহণ উপদেষ্টা এই কঠিন কাজে নিয়োজিত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ধন্যবাদ জানান।
ইউডি/কেএস

