গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু শিগগির

গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু শিগগির

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ২৭ জুলাই, ২০২৫, আপডেট ১২:৩০

নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ ট্রাস্টের অধীন অনুমোদন পাওয়া বেসরকারি গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শিগগিত শুরু করা হবে। বর্তমানে উত্তরার দিয়াবাড়ির একটি ভবনের চারটি ফ্লোরে প্রাথমিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

দিয়াবাড়ির ভবনে এরই মধ্যে শ্রেণিকক্ষসহ সবকিছু প্রস্তুত করা হয়েছে। দ্রুত শুরু হবে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া। তবে এ বিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস হবে রাজধানীর পূর্বাচলে। সেখানে পর্যাপ্ত জমিও কেনা হয়েছে।

গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়টির সিলেবাস ও কারিকুলাম প্রস্তুত করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) অনুমোদনের জন্য জমা দেওয়া হচ্ছে। অনুমোদনের পর তারা কোন কোন বিষয় শুরুতে পড়ানো হবে, তা জানাতে পারবেন।

জানা যায়, গত ১৭ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২২ শর্তে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দিয়ে আদেশ জারি করে। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি সংস্থা গ্রামীণ ট্রাস্ট এ ইউনিভার্সিটির জন্য আবেদন করে। এটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল হাসান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে গ্রামীণ ইউনিভার্সিটিকে দেওয়া শর্তের মধ্যে আছে সাময়িক অনুমতির মেয়াদ হবে সাত বছর, প্রস্তাবিত ইউনিভার্সিটির কমপক্ষে ২৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের নিজস্ব বা ভাড়া করা ভবন থাকতে হবে। ন্যূনতম তিনটি অনুষদ ও এসব অনুষদের অধীন কমপক্ষে ছয়টি বিভাগ থাকতে হবে। ইউনিভার্সিটির নামে সংরক্ষিত তহবিলে কমপক্ষে দেড় কোটি টাকা যেকোনো তফসিলি ব্যাংকে জমা থাকতে হবে। এ রকম ২২টি শর্ত তাদের মানতে হবে।

চাকরিপ্রার্থী নয়, চাকরিদাতা তৈরির লক্ষ্য
গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য কি, ভিন্নতা কি থাকবে, এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিশন সামাজিক ব্যবসার নীতিমালা ও বৃহত্তর লক্ষ্য-তিন শূন্য অর্জন (জিরো পোভার্টি, জিরো আনএমপ্লয়মেন্ট, জিরো নেট কার্বন এমিসনস) লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য হবে চাকরিপ্রার্থী নয়, চাকরিদাতা তৈরি করা। এখানে সামাজিক ব্যবসাভিত্তিক ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বিত কারিকুলাম থাকবে। উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে তিন শূন্য অর্জনের লক্ষ্য পূরণ করা হবে। হাতেকলমে শিক্ষা, কমিউনিটির সমস্যা সমাধানের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতারা জানান, গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষার একটি সাহসী পদক্ষেপ। এটিকে এমন একটি ক্ষেত্র হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে, যেখানে ভবিষ্যতের সামাজিক উদ্যোক্তারা তৈরি হবে; যারা একটি নতুন অর্থনৈতিক মডেলকে নেতৃত্ব দেবেন, যা হবে মানবকেন্দ্রিক, সমস্যার সমাধানমুখী এবং পরিবেশবান্ধব।

৭৬ বিঘা জমির ওপর হবে স্থায়ী ক্যাম্পাস
গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হবে দ্রুতই। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬০ হাজার বর্গফুট জায়গা নিয়ে কার্যক্রম শুরু হবে, তবে তা পর্যায়ক্রমে আরও বিস্তৃত হবে।

স্থায়ী ক্যাম্পাস হবে পূর্বাচলের উলুখোলার এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পূর্বাচলে ৭৬ বিঘা জমি ক্রয় করা হয়েছে।

উদ্যোক্তারা জানান, শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া এরইমধ্যে শুরু করা হয়েছে। শিগগির জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। বেশ কয়েকটি বিভাগ খোলার লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। ইউজিসিতে আবেদন করা হবে। ইউজিসি যত বিষয় খোলার আবেদন মঞ্জুর করবে, তত বিষয় নিয়েই গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করবে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading