ঐকমত্য কমিশনেই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ‘নিষ্পত্তির’ দাবি এনসিপির
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ২০২৫, আপডেট ২১:৩০
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্যের বৈঠকে সুরাহা না হলে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা দেখছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে তিনি এ আশঙ্কার কথা শোনান।
তিনি বলেন, “ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কী হবে, সে বিষয়টা বাংলাদেশের রাজনীতিতে গভীর সংকট তৈরি করেছে।
“আমরা দেখেছি যে, দেশের রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মুলার ব্যাপারে এর আগে একটা জায়গায় একমত হয়েছিল। সে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে কয়েকটি নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু পরে হাসিনা যখন ক্ষমতায় এল, জুডিশিয়ারিকে ব্যবহার করে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রভিশন সংবিধান থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হল।”
এনসিপির এ নেতা বলেন, “ঐকমত্য কমিশনে রাজনৈতিক দলগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে একমত। কিন্তু সে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে গঠিত হবে, সে জায়গাটায় মোটা দাগে একটা একমতের জায়গা হলো, ত্রয়োদশ সংশোধনীতে যেভাবে বাধ্যতামূলকভাবে সাবেক বিচারপতিদের সরকারপ্রধান করার বিধান করা হয়েছিল, সেই জায়গাটা আমরা আর রাখার পক্ষপাতী নই।”
আগের তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায় সাবেক বিচারপতিকে বাধ্যতামূলকভাবে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রাখার বিধান ছিল, যা ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবে বাতিল করা হয়েছে।
এবার একটি বাছাই কমিটির মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা চূড়ান্ত করার কথা বলা হয়েছে। এই বাছাই কমিটিতে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও সংসদের তৃতীয় বৃহত্তম দলের একজন প্রতিনিধি।
যদি ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব না হয়, তাহলে ‘র্যাঙ্কড চয়েজ ভোটিং’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিধান থাকছে।
এ প্রক্রিয়ায় উল্লিখিত পাঁচজনের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্ট বিভাগের একজন করে বিচারপতি যুক্ত হয়ে মোট সাতজন সদস্য ভোট দেবেন। এই বিচারপতিরা নিজে থেকে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবেন না, তারা শুধু ভোট দেবেন।
আখতার বলেন, “আমাদের কাছে মনে হয়েছে, এ পদ্ধতি সংসদে সরাসরি পাঠানোর চেয়ে কার্যকর। কারণ সেখানে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন হবে।”
ইউডি/এবি

