কিশোরগঞ্জে নিজের মেয়েকে হত্যার দায়ে বাবাসহ একই পরিবারের ৩ জনের ফাঁসি
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ০৬ আগস্ট, ২০২৫, আপডেট ১৫:৩০
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের মেয়েকে হত্যার দায়ে বাবাসহ একই পরিবারের তিন জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর আসামি মোছা. নাজমুন্নাহারকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।
বুধবার (৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ নূরুল আমিন বিপ্লব আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার কিরাটন ইউনিয়নের ভাটিয়া জহিরকোনা গ্রামের মৃত আব্দুল মোতালিবের ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুর, তার ভাই খুর্শিদ মিয়া ও ভাতিজা সাদেক মিয়া। রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুরের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে একই এলাকার আবুবকর সিদ্দিকসহ কয়েক জনের সঙ্গে বিরোধ ছিল। এ বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গত ২০১৬ সালের ১০ আগস্ট আঙ্গুর ও তার ভাই-ভাতিজা মিলে আঙ্গুরের মেয়ে মীরা আক্তার আসমাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে তার মরদেহ বাড়ির পেছনে জঙ্গলে ফেলে রাখে।
এ ঘটনায় পরদিন ১১ আগস্ট আঙ্গুর বাদী হয়ে আবুবকরসহ ১৬ জনের নামে করিমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। কিন্তু তদন্তকালে পুলিশ হত্যার সঙ্গে মীরার বাবা আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুরসহ কয়েকজন স্বজন জড়িত থাকার প্রমাণ পায়। তাই হত্যা মামলায় আসামিদের জড়িত না থাকায় ২০১৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হয়।
এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর করিমগঞ্জ থানার এসআই অলক কুমার দত্ত বাদী হয়ে নিহত মীরার বাবা আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুর, তার ভাই খুর্শিদ মিয়া, ভাতিজা সাদেক মিয়া ও আঙ্গুরের স্ত্রী মোছা. নাজমুন্নাহারকে আসামি করে করিমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ৪ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
আদালত দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে বুধবার রায় ঘোষণা করেন। আসামিরা জামিনে গিয়ে পলাতক হন বলে জানান, জেলা জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন।
ইউডি/এআর

