ভাষাসৈনিক আহমদ রফিককে চিকিৎসার জন্য ল্যাবএইড হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে

ভাষাসৈনিক আহমদ রফিককে চিকিৎসার জন্য ল্যাবএইড হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার (১৮ আগস্ট) ২০২৫, আপডেট ১৫:১৫

ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক গুরুতর অসুস্থ। তিনি রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গতকাল রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ল্যাবএইড হাসপাতাল তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে।

ল্যাবএইড গ্রুপের চেয়ারম্যান চিকিৎসক এ এম শামীম সোমবার সকালে গণমাধ্যমে বলেন, ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক আলোকিত মানুষ। দেশের জন্য তার অনেক অবদান রয়েছে। তাকে ভালো রাখার চেষ্টা করবে ল্যাবএইড হাসপাতাল। তার চিকিৎসার ব্যয়ভার হাসপাতাল বহন করবে। সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরার পর সাপ্তাহিকভাবে তার শারীরিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।

আহমদ রফিকের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলেও জানান চিকিৎসক এ এম শামীম। তার কিডনি–সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত।

কবি ও বহুমাত্রিক লেখক, রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ আহমদ রফিক অসুস্থ অবস্থায় নিউ ইস্কাটনের গাউসনগরে ভাড়া বাসায় একাই ছিলেন। গতকাল দুপুরে গিয়ে দেখা গেল, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনসহ দেশের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়, সাংগঠনিক কার্যক্রমে কিংবদন্তিসম প্রায় শতাব্দীর সমান বয়সী মানুষটি বিছানায় শায়িত। প্রায় অচেতন। শুকিয়ে গেছে শরীর। থাকার মধ্যে আছে শ্বাসটুকু। কানের কাছে মুখ নিয়ে বেশ কয়েকবার ‘কেমন আছেন?’ জানতে চাইলে ভাষাসৈনিক ক্ষীণকণ্ঠে বললেন, ‘খারাপ, খুব খারাপ।’

নিয়মিত তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ইসমাইল সাদী। তিনি জানান, আহমদ রফিকের দেখভাল করেছেন ব্যক্তিগত সহকারী আবুল কালাম।

আহমেদ রফিকের দৃষ্টি ক্ষীণ হয়ে এসেছিল ২০১৯ সাল থেকেই। সে বছর চোখে অস্ত্রোপচার করলেও অবস্থার বেশি হেরফের হয়নি। ২০২৩ সাল থেকে প্রায় দৃষ্টিহীন।

ভাষাসৈনিক আহমদ রফিকের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানা গেল ব্যক্তিগত সহকারী আবুল কালামের কাছ থেকে। কালাম ৩৬ বছর ধরে তার সঙ্গে আছেন। বললেন, ২০২১ সালে পড়ে গিয়ে পা ভাঙার পর থেকেই আহমদ রফিকের অবস্থা বিশেষ ভালো যাচ্ছিল না। এর মধ্যে দৃষ্টি হারানোর পর লেখালেখি বন্ধ হওয়ায় খুবই মানসিক কষ্টে ছিলেন।

আহমদ রফিকের জন্ম ১৯২৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তার স্ত্রী মারা গেছেন ২০০৬ সালে। তিনি নিঃসন্তান। নিজের লেখা ও সংগ্রহ করা বিস্তর বই ছাড়া সম্পদ বলতেও কিছু নেই। কবিতা, প্রবন্ধ, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, গবেষণা মিলিয়ে তার লিখিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা শতাধিক। সর্বশেষ দুটি বই সময় প্রকাশন থেকে ‘ইন্ডিয়া-পাকিস্তান বাংলাদেশ কথা’, এই সময় পাবলিকেশনস থেকে প্রবন্ধগ্রন্থ ‘শিল্প-সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য’ প্রকাশিত হয়েছে ২০২৩ সালের অমর একুশের বইমেলায়। রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ হিসেবে আহমদ রফিক দুই বাংলায় অগ্রগণ্য। কলকাতার টেগর রিসার্চ ইনস্টিটিউট থেকে পেয়েছেন ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধি। দেশে একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার ও পদক পেয়েছেন বহুগুণে গুণান্বিত মানুষটি।

গত মাসের প্রথম দিকে আহমদ রফিকের অবস্থা বেশ খারাপ হয়েছিল। তাকে ১২ জুলাই ভর্তি করা হয়েছিল মগবাজারের কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে ১৯ জুলাই বাসায় নিয়ে আসা হয়। লাঠিতে ভর দিয়ে ঘরের ভেতরেই একটু হাঁটাচলা করতেন। ব্যক্তিগত সহকারী জানালেন, এ মাসের ৭ তারিখ থেকে চলাচলের শক্তি একেবারেই হারিয়ে ফেলেছেন।

কয়েক মাস আগে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা পাঁচ লাখ টাকার সহায়তা দিয়েছিলেন।

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading