ছাত্র আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে সরকারের রোষানলে জোকোভিচ
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার , ২২ আগস্ট, ২০২৫, আপডেট ১৫:৫০
সাবেক বিশ্ব এক নম্বর টেনিস তারকা নোভাক জোকোভিচ নিজের দেশ সার্বিয়ায় ছাত্র আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে গেছেন গেল বছর। এবার তিনি তার পরিণতিও ভোগ করছেন। সরকারের চাপ আর সরকারপন্থী গণমাধ্যমের সমালোচনায় এতটাই বিপাকে পড়েছেন যে পরিবার নিয়ে গ্রিসে যাওয়ার কথা ভাবছিলেন।
এমনই খবর জানিয়েছে জার্মান সংবাদমাধ্যম নই জ্যুরশে’ জাইটং জানায়, সার্বিয়ান সরকার জোকোভিচকে ‘লক্ষ্যবস্তু’তে পরিণত করে। এর কারণ তিনি প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচের সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রনেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন।
২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদ শহরে একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হন। এ ঘটনার পর থেকেই পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে ৪০০টিরও বেশি শহরে।
জোকোভিচ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এক্স (পূর্বের টুইটার)–এ লেখেন, ‘যুবসমাজের শক্তি ও তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্নে আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি। তাদের কণ্ঠস্বর শোনা জরুরি। সার্বিয়ার অসীম সম্ভাবনা আছে, আর শিক্ষিত তরুণরাই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমাদের যা দরকার, তা হলো বোঝাপড়া আর সম্মান।’
আন্দোলনকারীদের ওপর স্বাভাবিকভাবেই নেমে আসে সরকারী দমনপীড়ন। জানুয়ারি মাসে তিনি এরও নিন্দা জানান।
এরপর থেকেই সরকারপন্থী গণমাধ্যম জোকোভিচ ও তার পরিবারকে নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা শুরু করে। স্থানীয় পত্রিকা ইনফর্মার তার কাজকে প্রথমে ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দেয়। পরে যখন খবর ছড়ায় যে তিনি গ্রিসে চলে যেতে চাইছেন, তখন বলা হয় তিনি ‘ভুয়া দেশপ্রেমিক’, যিনি এত বছর সার্বিয়ার প্রতীক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন, এখন আবার দেশ ছাড়ছেন। এখানেই শেষ নয়, তার বাবার প্রতি শিশুকামিতার অভিযোগও আনে সরকারপন্থী পত্রিকাটি।
সরকারপন্থীদের সমালোচনার তোড় আরও বাড়ে, যখন ২০২৫ সালের উইম্বলডনে জোকোভিচ বিজয় উদযাপন করেন নাচের ভঙ্গিতে। অনেকেই মনে করেন এটি ছাত্র আন্দোলনের স্লোগান ‘পাম্প’-এর প্রতি ইঙ্গিত। তবে জোকোভিচ পরিষ্কারভাবে তা অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি সার্বিয়ান সাংবাদিকদের আগেই বলেছি, এটি আমার আর আমার সন্তানদের ব্যক্তিগত বিষয়। আমাদের একটি গান আছে, নাম ‘পাম্প ইট আপ’। হয়তো আপনারা অনেকে জানেন না, তবে এটি একটি পুরোনো গান, যার তাল দারুণ।’
ইউডি/এআর

