চীন ও পাকিস্তান শুরু করতে চায় নতুন অর্থনৈতিক করিডোর প্রকল্প
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার , ২২ আগস্ট, ২০২৫, আপডেট ১৮:০০
চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের একটি প্রধান প্রকল্প চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোরের আওতায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করতে সম্মত হয়েছে চীন ও পাকিস্তান।
এনডিটিভি লিখেছে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
পাকিস্তান সরকারের এক বিবৃতি অনুযায়ী, চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর কর্মসূচির মাধ্যমে দুইপক্ষ নতুন প্রকল্প চালু করতে সম্মত হয়েছে।
তবে প্রস্তাবিত প্রকল্প সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিশদ তথ্য প্রকাশ করেনি দেশ দুটি।
চীনা ভাষায় যে উদ্যোগকে বলা হয় ‘এক অঞ্চল, এক পথ’, সেই উদ্যোগে বিশ্বজুড়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সড়ক, রেলপথ ও বন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে। তাতে আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক গভীর হয়েছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে চীন যাতে বৃহত্তর ভূমিকা রাখতে পারে, সেজন্য চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেওয়া কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে এই উদ্যোগ।
এনডিটিভি লিখেছে, চীন ইতোমধ্যে চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোরের মাধ্যমে পাকিস্তানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এ অর্থ দিয়ে সড়ক, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও রেল সংযোগ তৈরি করে চীনের পশ্চিমাঞ্চলের শিনজিয়াং প্রদেশকে পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমে আরব সাগরের গদর বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে কিছু চীনা নাগরিক বিদ্রোহীদের হামলার শিকার হয়েছেন।
পাকিস্তান সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিল্প ও কৃষি খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেলুচিস্তান ও অন্যান্য অঞ্চলে চীনা কর্মী ও প্রকৌশলীরা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলার শিকার হওয়ায় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ওয়াং ই।
পাকিস্তান বলেছে, তারা ইতোমধ্যে চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছে।
চীন দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের প্রধান মিত্র এবং ঋণদাতার ভূমিকা পালন করছে, বিশেষ করে ইসলামাবাদ যখনই দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংকটে ভুগেছে, সহায়তার হাত বাড়িয়েছে বেইজিং।
এ বৈঠক এমন এক সময়ে হল, যার একদিন আগেই ওয়াং ই ও ইসহাক দার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আফগানিস্তানের তালেবান শাসকদের সঙ্গে কাবুলে ত্রিপক্ষীয় সংলাপে মিলিত হন।
পাকিস্তান সফরের আগে ওয়াং ই এ সপ্তাহের শুরুতে প্রতিবেশী ইন্ডিয়া সফর করেন, যেখানে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনা হয়।
ইউডি/এআর

