চট্টগ্রাম বন্দরে ‘স্টোররেন্ট’ এক মাসের জন্য স্থগিত

চট্টগ্রাম বন্দরে ‘স্টোররেন্ট’ এক মাসের জন্য স্থগিত

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫, আপডেট ০৯:২০

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) আমদানি করা এফসিএল (ফুল কনটেইনার লোড) কনটেইনারে চলমান চার গুণ ‘স্টোররেন্ট’ এক মাসের জন্য স্থগিত করেছে। বন্দর ইয়ার্ডে কনটেইনার জট কমাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) চবকের পরিবহন বিভাগের পরিচালক এনামুল করিম স্বাক্ষরিত এ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর এবং ঢাকার কমলাপুর আইসিডিতে প্রযোজ্য, পানগাঁও আইসিটিতে চলতি বছরের ১০ মার্চ চার গুণ হারে স্টোররেন্ট আরোপ করা হয়। তবে নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান ও বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম গতিশীল রাখার স্বার্থে শনিবার (২৩ আগস্ট) থেকে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এফসিএল কন্টেইনারের ওপর চলমান চার গুণ স্টোররেন্ট স্থগিত করা হয়েছে। তবে খালি কনটেইনারের ক্ষেত্রে এ স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে না।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ (বিজিএমইএ) বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের অনুরোধে বন্দর কর্তৃপক্ষ এ স্থগিতাদেশ দিয়েছে।

তাই চবক আমদানিকারকদের দ্রুত তাদের কনটেইনার ডেলিভারি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় থাকে।

বিজিএমইএর পরিচালক ও এইচকে-টিজি গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল আজিজ চৌধুরী বলেন, আমরা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। এটি নিঃসন্দেহে ব্যবসায়ীদের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। স্টোররেন্ট চার্জ স্থগিতের ফলে আমাদের উপর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে একটি বড় চাপ কমবে। তবে আমরা মনে করি, এই সুবিধাটি কেবল স্বল্পমেয়াদে নয় দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর থাকা প্রয়োজন। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা।

তিনি বলেন, স্টোররেন্টের কারণে আমরা বারবার ভোগান্তির শিকার হয়েছি। অতিরিক্ত চার্জের ফলে আমাদের রপ্তানি ও আমদানি কার্যক্রমে দেরি হয়েছে। অনেক সময় শিপমেন্ট সময়মতো পাঠানো সম্ভব হয়নি, যার ফলে ‘Made in Bangladesh’ ব্র্যান্ডের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে, ক্রেতারা অর্ডার দিতে দ্বিধা প্রকাশ করেছেন শুধু সময়মতো শিপমেন্ট না পাওয়ার আশঙ্কায়। এটি আমাদের ব্যবসা ও দেশের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম আরও দক্ষ হতে হবে। বন্দর ব্যবস্থাপনায় জটিলতা যত কমানো যাবে, ব্যবসার গতি তত বাড়বে। দ্রুত কনটেইনার হ্যান্ডলিং, কার্যকর কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স এবং পর্যাপ্ত অবকাঠামো উন্নয়ন এ মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি। আমাদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে হলে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া অপরিহার্য।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading