পিরোজপুরে বিদ্যুতের টাওয়ারে মানষিক ভারসাম্যহীন যুবক, পাঁচ ঘণ্টা পর উদ্ধার
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫, আপডেট ১৬:২০
পিরোজপুরের নেছারাবাদে ৩৪০ ফুট উঁচুতে একটি বিদ্যুতের টাওয়ারের চূড়ায় উঠে পাঁচ ঘণ্টা অবস্থান করেছিল একজন মানষিক ভারসাম্যহীন যুবক। এতে গোটা উপজেলায় পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল। নেছারাবাদ ফায়ার সার্ভিসের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর স্থানীয় চার যুবকের প্রচেষ্টায় ওই যুবকটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধারকারী যুবকেরা হলেন- কাউখালি থানার মো. হাফিজুর রহমানের ছেলে মো. শাহ আলম ওরফে কালু মিয়া, একই উপজেলার মো. ইমাম হোসেনের ছেলে মো. রিপন মিয়া, নেছারাবাদ উপজেলার জগৎপট্টি গ্রামের মো. জবান আলী হাওলাদারের ছেলে মো. কালাম হোসেন, কামারকাঠি গ্রামের মো. কুদ্দুস মিয়ার ছেলে মো. রুবেল হোসেন।
মানষিক ভারসাম্যহীন ওই যুবকের নাম শঙ্কর বেপারী বাহাদুর (৩৮)। তিনি উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের দুর্গাকাঠি গ্রামের মৃত নিকুঞ্জ বেপারীর ছেলে। তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার স্বরূপকাঠি পৌসভার ৭নং ওয়ার্ডের সেনাক্যাম্প সংলগ্ন টাওয়ারে নিচে একজন মানষিক ভারসাম্যহীন আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী একজন যুবক আসে। সবার অগোচরে সে টাওয়ারে উঠে। এসময় স্থানীয়রা তাকে দেখে নামতে বললে সে ক্রমেই টাওয়ারের চূড়ায় উঠে যায়। দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা বিদ্যুৎ বিভাগ খবর পেয়ে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেয়। খবর পেয়ে নেছারাবাদ ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে নামানোর জন্য চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
উদ্ধারকৃত শংকর বেপারীর মা আলো রানী বেপারী জানান, আমার ছেলেটি ছোটবেলায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। ও মানসিক ভাবে অসুস্থ থাকায় সব সময় চোখে চোখে রাখি। কিন্তু হঠাৎ আজ সকালে তাকে ঘরে না দেখে অনেক খোঁজাখুঁজি করেছিলাম। পরবর্তীতে নেছারাবাদ থানার পুলিশ হঠাৎ জানালে বিষয়টি জানতে পারি। আমি আমার ছেলেকে পেয়ে চিন্তা মুক্ত হলাম।
নেছারাবাদ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইন চার্জ মো. মনিরুল ইসলাম জানান, আমরা দুপুর ১২টার সময় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছি। দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা পর স্থানীয় কিছু যুবকদের সাহসী প্রচেষ্টায় তাকে নামানো হয়েছে। তাকে নেছারাবাদ থানায় নেয়া হয়েছে।
নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. বনি আমিন বলেন, তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ওই মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের পরিবারকে থানায় খবর দেয়া হয়েছে।
নেছারাবাদ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. জানে আলম জানান, আমরা তাকে নামানোর জন্য ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রেখেছিলাম। যেহেতু টাওয়ার দিয়ে মেইন লাইন গেছে তাই বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করায় উপজেলার গোটা বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল। একটা হইহুল্লোর কান্ড হয়েছে।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি জানতে পেরে ওখানে উপস্থিত হয়েছিলাম। কিছু সাহসী ছেলেদের তৎপরতায় তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের এই দুঃসাহসী কাজের জন্য একটি প্রাণ বেঁচে গেল। উদ্ধারকার্যে অংশগ্রহণ করা যুবকদের অফিসে ডেকে এনে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
ইউডি/রেজা

