সাংবাদিককে পিটুনি, হামলাকারীদের আটক করেও ছেড়ে দিল পুলিশ

সাংবাদিককে পিটুনি, হামলাকারীদের আটক করেও ছেড়ে দিল পুলিশ
সংবাদকর্মী আরমান ভূঁইয়া

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫, আপডেট ০০:২০

রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকায় পুলিশের সামনে একদল রিকশাচালকের হামলায় আহত হয়েছেন এক সংবাদকর্মী।

পুলিশ হামলাকারী চক্রের কয়েকজনকে আটক করে তেজগাঁও থানায় নিয়ে গেলেও পরে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১টার দিকে সংসদ ভবনের পাশে মনিপুরীপাড়া ৫ নম্বর গেইটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত সংবাদকর্মীর নাম আরমান ভূঁইয়া। এতে তার মাথায় গুরুতর জখম হয়। পুলিশ তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে তার মাথায় দুটি সেলাই দেওয়া হয়।

আরমান বলেন, “ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে ছিনতাই করছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। সেই রাত সোয়া ১২টার দিকে আমি ও আমার এক বন্ধু চক্রের একজনকে আটক করি। সঙ্গে সঙ্গে চক্রের আরও তিনজন সদস্য চলে আসে।

“আমরা তেজগাঁও থানার ওসিকে বিষয়টি জানাই এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করি। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসতে দেরি করায় ছিনতাইকারী চক্রের আরও ১০–১৫ জন সদস্য চলে আসে। পরে তেজগাঁও থানা পুলিশের সামনেই আমার ওপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করে।”

হামলার পর তেজগাঁও থানার এসআই নিয়াজ উদ্দিন মোল্লা জাহাঙ্গীর, শাহিন, রাব্বিসহ কয়েকজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। পুলিশের একটি দল আরমানকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

থানা থেকে টাকার লেনদেন করে ছিনতাইকারীদেরকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ করেন আরমান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই নিয়াজ বলেন, “আটক ব্যক্তিদের ডিউটি অফিসারের কাছে রেখে আমি অন্য কাজে চলে যাই।”

সেদিন রাতে তেজগাঁও থানার ডিউটি অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন এসআই নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “সেদিন আটকের বিষয়ে আমার নলেজে নাই। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।”

সে রাতে থানার দায়িত্বে ছিলেন সেকেন্ড অফিসার এসআই আসাদুর রহমান। তিনি বলেন, “ওসি স্যারের নির্দেশে আটক ব্যক্তিদের নাম–ঠিকানা রেখে গ্যারাজ মালিকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।”

জানতে চাইলে তেজগাঁও থানার ওসি মো. মোবারক হোসেন বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ৫–৬ জন রিকশাচালককে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। আবার তাদের ছাড়িয়ে নিতে আরও ৫০–৬০ জন রিকশাচালক এসে মব সৃষ্টির চেষ্টা করছিল। তাই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

আহত সংবাদকর্মী আরমান বলেন, “ছিনতাইকারীদের হামলার ঘটনায় একটি মামলা করার জন্য শুক্রবার সারাদিন ঘুরেছি। থানা পুলিশ নানা কৌশলে সময়ক্ষেপণ করেছে। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওসির নির্দেশে একটি অভিযোগ নিয়েছে পুলিশ। তবে এখনও সেটি মামলায় রূপ নেয়নি।”

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading