রাজশাহীতে জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিতে নতুন উদ্যোগ

রাজশাহীতে জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিতে নতুন উদ্যোগ

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫, আপডেট ১৯:৪০

নারীর ক্ষমতায়ন, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে রাজশাহীতে উদ্বোধন হলো ‘লাইট হাউজ নাগরিক অধিকার ও জলবায়ু ন্যায্যতা প্রকল্প’-এর। রোববার (১২ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান খান।

সুইজারল্যান্ড দূতাবাস ও গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার অর্থায়নে, সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ)-নাগরিকতা প্রোগ্রাম ও জিএফএ কনসাল্টিং গ্রুপের কারিগরি সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে উন্নয়ন সংস্থা লাইট হাউজ। এর মূল লক্ষ্য হলো নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার এবং স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি।

উদ্বোধনী সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ এনডিসি, সমাজসেবা অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) সৈয়দ মোস্তাক হাসান, জেলা পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম. ইলিয়াস হোসেন। সভার সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার এবং সঞ্চালনা করেন লাইট হাউজের নির্বাহী প্রধান মো. হারুন অর রশিদ।

প্রধান অতিথি মো. সাইদুর রহমান খান বলেন, “নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নারীর অংশগ্রহণ অপরিহার্য। লাইট হাউজের এই প্রকল্প নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।” তিনি আরও বলেন, সরকার, উন্নয়ন সহযোগী ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন দৃশ্যমান বাস্তবতা। স্থানীয় পর্যায়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করেই টেকসই সমাধান সম্ভব।” সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক সৈয়দ মোস্তাক হাসান প্রকল্পটিকে সমাজের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সহায়ক বলে মন্তব্য করেন।

রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম বলেন, “জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সমাজের প্রতিটি নাগরিকের ভূমিকা রয়েছে। এই প্রকল্প নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।” অধ্যাপক ড. এম. ইলিয়াস হোসেন বলেন, “জলবায়ু ন্যায্যতা কেবল পরিবেশ নয়, এটি নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়ও।”

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার বলেন, “রাজশাহী জেলা প্রশাসন সবসময় জনগণনির্ভর উন্নয়ন কার্যক্রমকে উৎসাহিত করে। এই প্রকল্পটি নারী ও সিভিল সোসাইটির অংশগ্রহণে জলবায়ু ন্যায্যতা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের ছয়টি জেলায় নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, সহিংসতার শিকার নারীদের সহায়তা, যুব সমাজের স্বাস্থ্যসচেতনতা, স্থানীয় সংগঠনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা গড়ে তোলা হবে। আয়োজকদের মতে, এটি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি)-এর ৫, ১৩ ও ১৬ নম্বর লক্ষ্যের বাস্তবায়নে অবদান রাখবে।

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading