শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুর ওপর চাপ বজায় রাখতে পারবেন ট্রাম্প?

শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুর ওপর চাপ বজায় রাখতে পারবেন ট্রাম্প?

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫, আপডেট ১২:১৫

গাজা শান্তি চুক্তি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক অর্জন। যেখানে মিশরে সোমবার (১৩ অক্টোবর) ইসরাইল-হামাসের মধ্যে শান্তি স্থাপনে প্রথম ধাপের চুক্তি সই করেন ট্রাম্পসহ বিশ্বের অন্যান্য নেতারা। তবে চুক্তির পরবর্তী ধাপে পৌঁছাতে নেতানিয়াহুর ওপর ট্রাম্পের চাপ প্রয়োগ করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

কিন্তু বিশ্লেষক এবং কূটনীতিকরা বলছেন, যদি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তাহলে ট্রাম্পকে তার পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ নিশ্চিত করতে হবে। আর তা করতে যার সমর্থন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হবে তার উপর চাপ বজায় রাখতে হবে। তিনি হলেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। রয়টার্স বলছে, বিল ক্লিনটন থেকে শুরু করে জো বাইডেন পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টরা দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন ইসরাইলি নেতার সাথে কাজ করা কঠিন বলে মনে করেছেন। এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারাও কখনও কখনও ইসরাইলি সামরিক হামলার কারণে হতাশ হয়েছিলেন, যার মধ্য দিয়ে তারা মার্কিন নীতিকে ক্ষুণ্ন করছে বলে মনে করেন।

কিন্তু এই মাসে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে একটি শান্তি চুক্তির জন্য তার কাঠামো মেনে নিতে বাধ্য করতে সক্ষম হয়েছেন।

একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোকে দিয়ে হামাসকে সমস্ত ইসরাইলি জিম্মিদের ফিরিয়ে দিতে রাজি করাতে সক্ষম হয়েছেন, যা যুদ্ধে তাদের মূল শক্তি।

তবে এখন তার কাজ আরও কঠিন হতে পারে বলে প্রতিবেদন বলছে। ট্রাম্পের ২০-দফা পরিকল্পনার অনেক দিক নিয়ে ইসরাইল এবং হামাস তীব্রভাবে বিভক্ত এবং ইসরাইল যখন আগামী বছরের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন নেতানিয়াহুর অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে। কারণ তিনি তার ডানপন্থি জোটকে একত্রিত রাখার চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে ইসরাইলি পররাষ্ট্র নীতি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক মিটভিমের সভাপতি নিমরোদ গোরেন, ‘আমরা এমন একটি রাজনৈতিক বছরে প্রবেশ করছি যেখানে সবকিছুই প্রচারণার সাথে সম্পর্কিত এবং নেতানিয়াহুর হিসেব নিকেশ চাপের দিকে ঝুঁকে পড়ার পরিবর্তে তার রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার চেষ্টায় পরিণত হতে পারে।

ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার সম্ভাব্য বাধাগুলোর মধ্যে একটি হল, একটি চুক্তি যেখানে হামাসকে নিরস্ত্র করা হবে এবং গাজার ভবিষ্যত প্রশাসনে কোনো ভূমিকা পালন করতে পারবে না। যদিও হামাস সাধারণত ট্রাম্পের পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছিল, গোষ্ঠীটির সরকারী প্রতিক্রিয়ায় সেই নির্দিষ্ট শর্তগুলোর কোনো উল্লেখ করা হয়নি এবং হামাস নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, তারা যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা পরিচালনায় আসলে নিজেদের ভূমিকা দেখতে পান।

এদিকে, একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইসরাইলকে জোরালোভাবে সমর্থন করে নেতানিয়াহুর উপর প্রভাব বিস্তার করেছেন। ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী এবং বিতর্কিত গোলান হাইটসকে দেশের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, ইসরাইলি সরকার দীর্ঘদিন ধরে দুটি জিনিস চেয়ে আসছিল।

এছাড়া সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প আরও কঠোর হয়ে উঠেছিলেন। সেপ্টেম্বরে হামাসের আলোচকদের লক্ষ্য করে ব্যর্থ বোমা হামলার পর কাতারের নেতার কাছে ক্ষমা চাইতে তিনি নেতানিয়াহুকে বাধ্য করেছিলেন। অবশেষে, ইসরাইল নেতার দ্বিধাদ্বন্দ্ব সত্ত্বেও তিনি নেতানিয়াহুকে তার ২০-দফা পরিকল্পনায় স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেছেন। তবে, শেষ পর্যন্ত শান্তি প্রতিষ্ঠায় নেতানিয়াহুর উপর ট্রাম্পের চাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading