২৫ সেনাকর্তা ট্রাইব্যুনালে হাজির না হলে ‘পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি’: প্রসিকিউশন

২৫ সেনাকর্তা ট্রাইব্যুনালে হাজির না হলে ‘পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি’: প্রসিকিউশন

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) ২০২৫, আপডেট ২৩:৫৫

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ও বর্তমান ২৫ সেনা কর্মকর্তা বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির না হলে ‘পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি’ প্রচারের বিধান থাকার কথা বলেছে প্রসিকিউশন।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে কৌঁসুলি গাজী এম এইচ তামিম সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিরোধী মতের লোকদের গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে গেল ৮ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এই দুই মামলায় বুধবার তাদের ট্রাইব্যুনালের হাজিরের দিন ধার্য রয়েছে।

এদিন তাদের হাজিরের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তামিম বলেন, ট্রাইব্যুনাল কয়েকজন বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়না জারি করেছে।

বুধবার ওই মামলাগুলোর তারিখ রয়েছে তুলে ধরে তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের আদেশ থেকে দেখা যায় যে পুলিশের আইজিপিকে বলা হয়েছে তিনি এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করবেন এবং যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে তাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও এই পরোয়ানার একটি কপি পাঠানো হয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আইন অনুযায়ী দুটি কাজ হতে পারে তুলে ধরে তামিম বলেন, এক হলো তারা এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পারেন; অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে পারে।

“ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী যদি ওনারা হাজির হন অথবা ওনাদেরকে গ্রেপ্তার করে হাজির করা হয়, ট্রাইব্যুনাল চাইলে তাদের জামিন দিতে পারেন যদি তারা জামিন চান, অথবা তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দিতে পারেন। যদি জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন তবে কারা কর্তৃপক্ষ যেহেতু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ওনারা সিদ্ধান্ত নেবেন কোন কারাগারে নেবেন।

“যদি ওনারা হাজির না হন অথবা ওনাদেরকে হাজির করা না হয়, তবে এই আইন অনুযায়ী দুটি জাতীয় পত্রিকায়–একটি বাংলা এবং একটি ইংরোজি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে এবং একটি তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়া হবে যে আগামী অমুক তারিখে ওনারা যেন হাজির হয়, এ মামলায় ‘অ্যাপিয়ার’ করার জন্য।”

পত্রিকার বিজ্ঞপ্তির পরও যদি ওনারা হাজির না হন তাহলে পলাতক দেখিয়ে তাদের পক্ষে রাষ্ট্র আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) নিয়োগ করবে বলে তুলে ধরেন কৌঁসুলি তামিম।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়ার ঘোষণার পরদিন ১২ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে সাময়িকভাবে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করেছে। তবে এ কারাগারে কাদের রাখা হবে সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

তার আগের দিন ১১ অক্টোবর সেনা সদরের এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিন মামলায় সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান যে ৩২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে বর্তমানে চাকরিরত ১৫ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

ইউডি/এবি

badhan

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading