সনদ বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট ফোরাম জাতীয় সংসদ: সালাহ উদ্দিন
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার (২৬ অক্টোবর) ২০২৫, আপডেট ২১:০৫
জুলাই সদন বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট ফোরাম ‘নির্বাচিত জাতীয় সংসদ’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালা্হ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘‘জুলাই হচ্ছে জাতীয় জীবনে রাজনৈতিক সমঝোতার একটি ঐতিহাসিক পূর্ণাঙ্গ দলিল। যা বাস্তবায়নের জন্য আমরা সবাই অঙ্গীকারবদ্ধ এবং সেই বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট ফোরাম হচ্ছে একটি নির্বাচিত জাতীয় সংসদ। এখানে কোনও দলের সে বিষয়ে কোনও দ্বিমত নেই।”
তিনি বলেন, ‘‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য যাতে জাতীয় সংসদ বাধ্য থাকে, সেজন্য একটা আইনি ভিত্তি করতে এখন সেই প্রস্তাব, অথবা সুপারিশ সরকারের কাছে দেওয়া এবং সেটা দেওয়ার পরেই আমরা জানতে পারবো—কী প্রক্রিয়ায় সেই আইনটা রচনা করতে চাচ্ছে।”
রবিবার (২৬ অক্টোবর) এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালা্হ উদ্দিন আহমদ এই মন্তব্য করেন। রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গণঅধিকার পরিষদের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরের সভাপতিত্বে ও ফারুক খানের সঞ্চালনায় এই আলোচনা সভায় বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘‘আমি সবার অবগতির জন্য বলতে চাই, সব রাজনৈতিক দলকে বলতে চাই, দেশবাসীর কাছে আবেদন করতে চাই, আমরা যেন কোনোভাবেই আইনানুগ প্রক্রিয়ার বাইরে না যাই, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বাইরে না যাই। আমরা যেন এই জাতিকে একটি সুষ্ঠু নিয়মতান্ত্রিক ধারার মধ্য দিয়ে পরিচালনা করি।”
‘‘কারণ, অনেকেই আবেগের বশবর্তী হয়ে বলে থাকেন—জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জনগণের যে অভিপ্রায় প্রকাশিত হয়েছে, সে অভিপ্রায়ের অবনতি ঘটবে বলে অনেক কিছু বৈপ্লবিক আদেশ জারি করা যায়। এই বক্তব্য হচ্ছে আবেগের। কারণ জনগণের অভিপ্রায়কে বাস্তবায়ন করার জন্যেই আমরা সবাই সংবিধানের আশ্রয় নিয়েছি এবং সাংবিধানিকভাবেই এই সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত আইনানুগভাবে সাংবিধানিকভাবে আমরা এই রাষ্ট্রটা পরিচালনা করছি।”
সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘‘এখানে কিছু কিছু বিষয়ের মধ্যে অনেকে বিতর্ক নিয়ে আসেন যে প্রকৃত সাংবিধানিকতাকে কী রক্ষা করা গিয়েছে? আমরা সব সময় উত্তর দিয়েছি। যত কিছু আমরা সংবিধানের ১০৬ ধারার মধ্য দিয়ে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেটার লেজিটিমেসি পরবর্তী পার্লামেন্টে অবশ্যই সরকারের কর্মকাণ্ডকে যখন বৈধতা দেওয়া হবে, তখন সেটা সংবিধানের চতুর্থ তফশিলে ধারণ করে তাকে বৈধতা দেওয়া হবে। রেটিফিকেশন করা হবে, অন্যান্য আইন কানুন যেগুলো পাস হয়েছে— সেগুলো রেটিফিকেশন লাগবে। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যদি কোনও না কোনও ব্যত্যয় হয়ে থাকে, সেই ব্যত্যয়গুলোকেও বৈধতা দেওয়া হয়ে থাকে—এটাই নিয়ম, এটাই আমাদের ঐতিহ্য এবং সাংবিধানিক ঐতিহ্য।”
‘‘সুতরাং আমরা সেই প্রোফাইল নিয়ে যেন আবার এমন কোনও অসাংবিধানিক পদ্ধতির দিকে না যাই, যাতে ভবিষ্যতে এটা নিয়ে আবার প্রশ্ন না উঠে যে, যার আদেশ জারি করার কথা, তিনি করলেন না। যেভাবে আদেশ জারি করার কথা সেভাবে হলো না, সেই আদেশের ভিত্তি যদি আইনানুগ না হয়, তাহলে সেই আদেশের আইন কীভাবে রচিত হবে এবং সেটাকে বাস্তবায়নের জন্য কীভাবে আবার পার্লামেন্টে নেবে। এই কথাগুলো যেন আমরা বলি।”
ইউডি/এবি

