সালমান হত্যা মামলার আসামি সামিরা সম্পর্কে কতটুকু জানেন?
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫, আপডেট ১৩:০৫
ঢালিউডের গৌরী হতে পারতেন সামিরা হক। অথচ সালমানের পরিবার ও অনুরাগীদের কাছে হত্যাকারী হয়ে রইলেন। তিন দশক ধরে তার প্রতি ঘৃণা বর্ষণ করছেন নায়কের অনুরাগীরা। সম্প্রতি সালমানের মৃত্যুতে হত্যা মামলা করায় সামিরাকে চর্চার মাত্রা বেড়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই রহস্যময়ী সম্পর্কে।
হাজারো নারী তার স্বামীর জন্য পাগল হলেও তিনি পাগল ছিলেন একাধিক পর পুরুষে। সেসব ধরা পড়তেই শেষ করে দেন স্বামীকে। বর্তমানে বিয়ে করেছেন বাবার বন্ধুকে। এভাবেই সামাজিক মাধ্যমে পরিচিত স্বপ্নের নায়ক সালমান শাহ প্রাক্তন স্ত্রী সামিরা।
চট্টগ্রামের মেয়ে সামিরা। তার বাবা জাতীয় দলের সাবেক উইকেটকিপার-অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা। মা থাইল্যান্ডের নাগরিক বিউটিপার্লার ব্যবসায়ী লুসি। শোনা যায় অসামান্যা সুন্দরী সামিরা ছিলেন তরুণদের ক্রাশ। রূপের যাদুতে ঘায়েল হয়েছিলেন হাজারো তরুণীর স্বপ্নের নায়ক সালমান শাহও।
দুজনের প্রথম দেখা হয় চট্টগ্রামের একটি ফ্যাশন শোয়ে। তারিখ ১৯৯০ সালের ১২ জুলাই। পরিচয়ে-ই ফেঁসেছিলেন সালমান। পরে তা রূপ নেয় প্রেমে।
তবে এই প্রেমের বাধা হয়ে দাঁড়ান সালমানের মা নীলা চৌধুরী। সামিরার মা বান্ধবী হওয়া সত্ত্বেও সামিরাকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নিতে নারাজ ছিলেন নীলা। কিন্তু সামিরার প্রেমে মাতোয়ারা ছিলেন সালমান। পরিবারের অমতে বিয়ে করেন সামিরাকে। ১৯৯২ সালে এক হয় চার হাত। মগবাজার ইস্কাটন রোডে সংসার পাতেন সালমান-সামিরা। বড় ক্ষণস্থায়ী ছিল সে ঘর। ১৯৯৬ সালের সালমানের মৃত্যুর মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে সে সংসারের।
সালমানের মৃত্যুর মধ্য দিয়েই প্রথম আলোচনায় আসেন সামিরা। কেননা সালমানের মৃত্যুকে হত্যা দাবি করে তার পরিবার অভিযোগের তীর নিক্ষেপ করে সামিরার দিকে। অন্যদিকে সালমানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দাবি করেন সামিরা। আরও দাবি করেন আগেও নাকি তিনবার আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন সালমান।
একাধিকবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন সামিরা। সালমানের মৃত্যুর পর তারই বন্ধু মোশতাক ওয়াইজকে বিয়ে করেন তিনি। সে ঘরে এক পুত্র ও দুই কন্যা আছে। তারপরও টেকনি সংসার। ২০২১ আলে ঘর ভাঙে তাদের। এরপর সে বছরের ১৫ জুলাই সামিরা বিয়ে করেন ক্রিকেট বিশ্লেষক ইশতিয়াক আহমেদকে। ইশতিয়াক জাতীয় দলের ক্রিকেটার ছিলেন।
২৯ বছর পর সালমান শাহর হত্যা মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। গেল ২০ অক্টোবর এ আদেশের পরদিন ২১ অক্টোবর সালমানের মামা আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে সামিরা হককে প্রথম আসামি করা হয়। এরপর থেকেই খোঁজ নেই তার। মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। হোয়াটস্যাপেও মিলছে না সাড়া।
ইউডি/কেএস

