সহপাঠীদের গোপন ছবি তুলে ‘সিনিয়র ভাই’কে পাঠান বাকৃবি ছাত্রী

সহপাঠীদের গোপন ছবি তুলে ‘সিনিয়র ভাই’কে পাঠান বাকৃবি ছাত্রী

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫, আপডেট ১৫:২৫

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে সহপাঠীদের গোপনে অপ্রস্তুত অবস্থার ছবি তুলে এক ‘সিনিয়র ভাইয়ের’ কাছে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ছাত্রী কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগে পড়েন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ছাত্রী নিয়মিত মেয়েদের ঘুমন্ত বা ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তুলে তার এক সিনিয়র সহপাঠীর কাছে পাঠাতেন। বিষয়টি প্রকাশ পেলে সোমবার (২৭ অক্টোবর) বিভাগীয় শিক্ষার্থীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিভাগীয় শিক্ষক এবং অনুষদের ডিনের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানান।

এ ঘটনায় তদন্ত ও সমাধানের জন্য কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল মজিদ ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কয়েকজন শিক্ষককে মৌখিকভাবে দায়িত্ব দেন। পরদিন মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) শিক্ষার্থীরা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ডিনের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সদ্য ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। যিনি ছবিগুলো গ্রহণ করতেন, তিনিও একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল মজিদ। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা অভিযোগ নিয়ে আমার কাছে আসে। আমরা অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে ছবি আদান-প্রদানের প্রমাণ পাই। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি মেয়েদের বিভিন্ন ছবি তুলতেন এবং তা এক সিনিয়র ভাইয়ের কাছে পাঠাতেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে ওই মোবাইলটি সিলগালা অবস্থায় ডিন অফিসে সংরক্ষিত রয়েছে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ ও নিরোধ কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

অভিযুক্ত সিনিয়র শিক্ষার্থী ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রভাষকও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি মেয়েটির সঙ্গে দীর্ঘদিন কথা বলেছি। সে যেসব ছবি পাঠিয়েছে, আমি তা সংরক্ষণ করিনি। আমার কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না, তবে আমি আমার কাজের জন্য অনুতপ্ত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমি তা মেনে নেব।’

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সহপাঠীরা জানান, ইন্টার্নশিপ চলাকালে তার সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করে তারা নজরদারিতে রাখেন। পরে নিশ্চিত হন যে, তিনি মেয়েদের ঘুমন্ত বা অপ্রস্তুত অবস্থার ছবি তুলতেন। বিষয়টি প্রমাণ হওয়ার পর তারা বিভাগীয় শিক্ষকদের অবহিত করেন এবং কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading