বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আসলে ‘নোট অব চিটিং’: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আসলে ‘নোট অব চিটিং’: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ২০২৫, আপডেট ২১:৫৫

ঐকমত্য কমিশনে দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্টের’ মাধ্যমে বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, বিএনপি ঐকমত্য কমিশনে যে ‘নোট অব ডিসেন্স’ দিয়েছে, এটা আসলে ‘নোট অব চিটিং’। এর মাধ্যমে তারা দেশের ১৮ কোটি মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতে চেয়েছিল। তবে সেই প্রতারণা দেশের তরুণ ছাত্র–জনতার কাছে ধরা পড়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে তারা ভেটো দিয়েছেন। অথচ তারা একসময় এটা চেয়েছিলেন। এ দেশের বেকার যুব সমাজের চাকরির প্রয়োজন থেকে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল। পিএসসির বিষয়ে বিএনপি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে। কারণ ‘ভাইয়ার’ কলে ছোট ভাইদের চাকরি দিতে হবে। এদেশে আর কোনো ‘ভাইয়াগিরি’ চলবে না। একটা নিরপেক্ষ পিএসসি গঠন ছাত্র সমাজের দাবি। ঐকমত্য কমিশনে বিএনপি কোনো আঁচড় বসাতে চাইলে এদেশের তরুণ সমাজকে রুখে দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ টাওয়ারে জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং জাতীয় নির্বাচন কোন পথে?’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন। ‘জাতীয় যুবশক্তি’ এর আয়োজন করে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, দেশবাসী একটা উৎকণ্ঠার মধ্যে আছে। গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো আমরা বিভেদ ও অনৈক্যের সুর দেখতে পাচ্ছি। এই বিভেদ ও অনৈক্য উস্কে দিচ্ছে আমাদের দেশের একটা বড় দল বিএনপি। দেশবাসী এই উৎকণ্ঠা থেকে মুক্তির জন্য সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দিকে তাকিয়ে আছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আমাদের আবেদন, ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদে যে সুপারিশমালা দিয়েছে, তার আদেশ জারি করুন।

তিনি আরও বলেন, সচিবালয় থেকে সব জায়গায় লুটপাতের লক্ষ্য নিয়ে এদেশে একটা পার্টি গঠিত হয়েছিল। এজন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে নিরপেক্ষ নিয়োগ তারা চায় না। তারা দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো। তারা দুর্নীতিকে আজীবন চলমান রাখতে চায়। এজন্য তারা সেখানে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। এছাড়া উচ্চকক্ষ হলে ‘ভাইয়াকে’ জবাবদিহিতা করা হবে। এজন্য এখানেও তারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। জনতার রক্তের ওপর করা ঐকমত্য কমিশন যে সুপারিশমালা দিয়েছে, সেগুলোর ওপর কোনো আঁচড় বসাতে পারবেন না।

নাসির আরও বলেন, নতুন কথা বাজারে এসেছে যে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার এখতিয়ার নাকি ড. ইউনূসের নেই। তাহলে তারা কি গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার করতে চান? জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার হলো ড. ইউনূসের। তাকে অতিসত্বর শহীদ মিনারে জনগণের সামনে উপস্থিত হয়ে জুলাই সনদের আদেশ জারি করতে হবে। বিএনপি বলছে, রাষ্ট্রপতি নাকি এই আদেশ জারি করবে। এই রাষ্ট্রপতির সেই বৈধতা নেই।

সরকারের উদ্দেশে এই এনসিপি নেতা বলেন, আপনাদের কাছে নীতিমালা এসেছে। আপনারা দ্রুত আদেশ জারি করুন। বিএনপি যে অনৈক্য সৃষ্টি করছে, তার থেকে দেশের মানুষকে মুক্তি দিন। আমরা দ্রুত নির্বাচনের কার্যক্রমে ঢুকতে চাই। তা না হলে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগও নির্বাচনে আসার সুযোগ পাবে। আগামীতে বিএনপির এই স্বপ্ন আমরা পূরণ হতে দেবো না। জাতীয় পার্টি সম্পর্কে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। এই কুসুম–কুসুম প্রেম আপনারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে করেছেন, জাতীয় পার্টির সঙ্গে করছেন।

জামায়াতের বিষয়ে তিনি বলেন, এদেশে জামায়াত আলাপ দেওয়ার চেষ্টা করছে যে, তারা সংস্কারের পক্ষে। বিএনপি খারাপ হলেও একদিকে ভালো যে, তারা যে সংস্কারের বিপক্ষে সেটা তারা সরাসরি বলে। আর জামায়াত সংস্কারের বিপক্ষে থেকেও বলে যে, তারা সংস্কারের পক্ষে। আমরা সুপারিশমালার সমাধান করতে পারিনি, প্রস্তাবের বিষয়ে সমাধান করতে পারিনি, আদেশের বিষয়ে সমাধান করতে পারিনি। কিন্তু তারা নতুন করে বাজারে নিয়ে এসেছে গণভোট। গণভোট হবে। গণভোট হলে যে জামায়াতে সংসদে ৩০০ আসন পেয়ে যাবে, সেটা তো হবে না। গণভোটে ‘হ্যা’ জয়যুক্ত হলে এদেশের মানুষের জয় হবে, জামায়াতের তো জয় হবে না। এজন্য জামায়াতে কাছে আমাদের আবেদন, আপনারা ভণ্ডামি বাদ দেন। ভণ্ডামি বাদ দিয়ে অন্তরে কী আছে খুলে বলেন। নিম্নকক্ষে পিআর চাচ্ছেন তা কি আসন বাড়ানোর জন্যে নাকি অন্য কোনো কারণে? রাজপথে নামতে হলে যৌক্তিক দাবি নিয়ে নামেন। আমরা মনে করছি, বিএনপি ও জামায়াত নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে নিজেদের মধ্যে আসন ভাগাভাগি করছে। বিএনপি এক্ষেত্রে নোট অব ডিসেন্ট আর জামায়াত নিম্নকক্ষে পিআর নিয়ে সরকারের সঙ্গে দরকষাকষি করতে চাচ্ছে। জামায়াতের নিম্নকক্ষে পিআর এবং আগে গণভোট দেওয়া হলো দলটির ভণ্ডামি।

ইউডি/এবি

badhan

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading