বৈরী আবহাওয়ায় আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি, দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

বৈরী আবহাওয়ায় আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি, দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১৪:২০

দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠজুড়ে এখন কৃষকদের মুখে গভীর দুশ্চিন্তার ছাপ। কয়েকদিনের টানা বৈরী আবহাওয়া, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে মাঠের পাকা সোনালী আমন ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন জেলার হাজার হাজার পরিশ্রমী কৃষক। ঘাম ঝরানো ফসল এভাবে নষ্ট হতে দেখে তারা এখন চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। চারটি ধানের থপ একত্রে করে আঁটি বেঁধে খাঁড়া করে রাখলে ধানের ক্ষতি হবে না, এমন পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি অধিদপ্তর।

জেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্যমতে এবার চলতি মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ৬০ হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষাবাদ হয়েছে।

রবিবার (২ নভেম্বর) জেলার বিভিন্ন উপজেলার ধানক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, কয়েকদিন ধরে কখনো ঝড়ো হাওয়া, কখনো মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে ধানক্ষেতে পানির স্তর বেড়ে গেছে এবং অনেক স্থানে ধানের গাছ মাটিতে শুয়ে পড়েছে।

হাকিমপুর উপজেলার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ধান কাটার কাজ শুরু করতেই এমন আবহাওয়া শুরু হলো। বাতাসে ধান পড়ে গেছে মাটিতে, এখন কেটে ঘরে তোলা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। শ্রমিকের মজুরি বেড়ে গেছে, তবুও ঠিকমতো শুকাতে পারছি না।

বিরামপুর উপজেলার কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, যদি দ্রুত রোদ না ওঠে, তাহলে কাটা ধান শুকানো সম্ভব হবে না। ভেজা অবস্থায় ঘরে তুলতে গেলে ধান পচে যাবে, ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

নবাবগঞ্জ উপজেলার কৃষক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, এক মৌসুমের ধান বিক্রি করেই আমরা পরিবারের খরচ চালাই, ঋণ পরিশোধ করি। কিন্তু এবারের এমন আবহাওয়ায় সেই আশা ভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জেলার কৃষকরা জানান, এ বছর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে সেই ফসল এখন নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিশেষ করে নিচু জমির ধান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দিনাজপুর জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, গত কয়েকদিন বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার কিছু এলাকায় আমন ধানের ক্ষতি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে আমাদের কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করছেন এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন, যাতে তারা কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারেন।

এদিকে জেলার কৃষকরা এখন একটাই প্রত্যাশা করছেন আকাশ যেন দ্রুত পরিষ্কার হয় এবং সূর্যের তাপ ফিরে আসে। কারণ রোদেলা দিনের অপেক্ষাতেই নির্ভর করছে তাদের সারা বছরের পরিশ্রমের সার্থকতা ও পরিবারের ভবিষ্যৎ।

ইউডি/মোসলেম উদ্দিন/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading