মুন্সীগঞ্জে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ডাকাতি, অর্ধকোটি টাকার মালামাল

মুন্সীগঞ্জে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ডাকাতি, অর্ধকোটি টাকার মালামাল

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১২:৪৫

মুন্সীগঞ্জে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ডাকাতি, অর্ধকোটি টাকার মালামাল
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় অস্ত্রের মুখে সাবেক এক সেনা সদস্যের পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাত দল স্বর্ণালঙ্কারসহ ৫৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে ভুক্তভোগীরা জানায়।

রবিবার (২ অক্টোবর) রাতে উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের বালুয়াকান্দি দক্ষিণপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ফজলুল হকের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ফজলুল হকের মেয়ে সাথী বেগম বলেন, রাত ১টার দিকে শব্দ পেয়ে আমার ঘুম ভেঙে যায়। তবে সে সময় বিষয়টি আমরা সেভাবে আমলে নেইনি। রাত ৩টার দিকে উঠে তাহাজ্জুতের নামাজ পড়তে বসলে দেখি জানালার গ্রিল কেটে বাসার ভেতরে প্রবেশ করছে দুই যুবক। তারা প্রথমে আমাকে, পরে আমার ছেলে সাবিদকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। পরবর্তীতে আরও ডাকাতরা ঢুকে আমাদের বিল্ডিংয়ের চারটি ফ্ল্যাটের প্রত্যেকটিতে একের পর এক লুটপাট চালাতে থাকে। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চলে এই ডাকাতির ঘটনা। তারা প্রায় নগদ ৩ লাখ টাকা, ৩২ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৯টি মোবাইল সেট লুট করে নিয়ে যায়। যাবার সময় তারা আমাদের সবাইকে একটি রুমে আটকে রেখে বা বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে তারপর চলে যায়।

ঘটনার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী সাবিদ বলেন, প্রথমে ডাকাত দলের দুই সদস্য কাটার দিয়ে জানালার গ্রিল কেটে রুমের ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ডাকাত দলের ২২/২৩ জন সদস্য বাসার ভেতরে প্রবেশ করে। বাইরে আরও কয়েকজন পাহারায় ছিল। ডাকাত দলের অধিকাংশ সদস্যের মুখে মাস্ক ও গামছা ছিল। তারা অস্ত্রের মুখে আমাকে জিম্মি করে আমাকে দিয়েই অন্যান্য ফ্ল্যাটের দরজা খোলান। আমার চোখের সামনে একের পর এক রুমে ডাকাতি হয়।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ফজলুল হক বলেন, আমার তিন ছেলে দেশের বাইরে থাকে। তাদের পাঠানো ৩২ ভরি স্বর্ণালংকার, কয়েকদিন আগে ব্যাংক থেকে তোলা নগদ ৩ লাখ টাকা ও ৯টি মোবাইল সেট লুট করে নিয়ে যায় ডাকিতরা। ডাকাতরা আমাদের পরিবার সম্পর্কে অনেক কিছু জানত। কোন রুমে কী আছে, আমরা কবে ব্যাংক থেকে টাকা তুলেছি এমনকি বাসায় ওয়াইফাই বন্ধ সবই জানত। আমার ধারণা স্থানীয় লোকও এর সঙ্গে জড়িত। এ বিষয়ে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করব।

ভুক্তভোগীর প্রতিবেশী লাক মিয়া বলেন, আমরা ৫টার দিকে বিষয়টি প্রথমে বুঝতে পারি। পরবর্তীতে লক করা রুম থেকে আমরা তাদের উদ্ধার করি। তারপর বিষয়টি জানাজানি হয়। এর মধ্যে ডাকাতি শেষে নির্বিঘ্নে চলে যায় ডাকাত দলের সদস্যরা।

গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, সকাল ৬টার দিকে আমি ৯৯৯ থেকে একটি কল পেয়ে এ বিষয়ে জানতে পারি। খবর পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading