সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত ৪০
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১৩:২৫
সহিংসতা কাটছেই না সুদানে। দেশটির উত্তর করদোফান প্রদেশে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এবার চালিয়েছে ড্রোন হামলা। হামলায় কমপক্ষে ৪০ জন বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড তাদের এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে।
আল জাজিরার বরাত দিয়ে জানা যায়, সোমবার প্রাদেশিক রাজধানী আল-ওবেইদের পূর্ব দিকে অবস্থিত আল-লুয়াইব গ্রামে এই হামলা চালানো হয়। বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্য করে পরিচালিত এই আক্রমণে নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ প্রাণ হারান।
প্রাদেশিক সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য ব্যবহৃত একটি তাঁবুতে এই ড্রোন হামলা চালানো হয়, যার ফলে সেখানে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। সরকার এই আক্রমণকে বেসামরিক জনগণের ওপর আরএসএফের অপরাধের একটি নতুন উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, হামলায় প্রাণ হারানোদের মধ্যে বয়স্ক, নারী ও শিশুরা একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।
এই জঘন্য ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আরএসএফ-কে অবিলম্বে “সন্ত্রাসী সংগঠন” হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে। সরকারের অভিযোগ, আরএসএফ ক্রমাগত নিরস্ত্র বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে, আরএসএফ আল-ওবেইদ শহরে আক্রমণের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল এবং সেখানকার বাসিন্দাদের নিরাপদ করিডোর ব্যবহার করে শহর ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল।
এদিকে, চলমান অস্থিরতার ফলে মানবিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, গত অক্টোবরের শেষ দিক থেকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে উত্তর ও দক্ষিণ করদোফান অঞ্চল থেকে প্রায় ৩৮ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
যদিও আরএসএফ বেসামরিকদের ওপর হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে, তবুও তারা চলমান সংঘাতে উত্তর করদোফানের বারা শহরের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছে। এর আগে, গত ২৬ অক্টোবর আরএসএফ উত্তর দারফুর প্রদেশের রাজধানী আল-ফাশের শহর দখল করার পর সেখানে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের অভিযোগ উঠেছিল। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের সংঘাত সুদানের ভৌগোলিক বিভাজনকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে সুদান এক ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের কবলে পড়েছে। এই মারাত্মক সংঘাত নিরসনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক চেষ্টা চালানো হলেও, এখন পর্যন্ত তা সফলতার মুখ দেখেনি।
ইউডি/এআর

