নীতিমালা না মানলে বাতিল হবে বারের লাইসেন্স
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৫, আপডেট ০৯:২০
ঢাকাসহ সারা দেশের বার ও ক্লাবগুলোর কার্যক্রমে নীতিমালা ভঙ্গ বা অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে নির্বাচনের আগে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার এবং কেপিআই (Key Point Installation) এলাকাগুলোর সুরক্ষায় কঠোর নজরদারি ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত কোর কমিটির সভায় এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এসব বিষয় নিশ্চিত করেছে।
বৈঠকে সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগা আগুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দুর্বলতা বা অবহেলা আছে কিনা, তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়।
উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, বিমানবন্দরসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন ও পুনর্গঠনের উদ্যোগ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বার ও ক্লাবগুলোর অনিয়মে কঠোর অবস্থান
সভা সূত্র জানায়, বিভিন্ন বার, ক্লাব ও বিনোদনকেন্দ্রে নীতিমালা লঙ্ঘন, কর ফাঁকি ও অবৈধ কার্যক্রমের বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিশদ প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসেছে। এসব প্রতিবেদনে একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মভঙ্গ, মদ আমদানি-বিতরণে অনিয়ম, এমনকি অনুমোদনবিহীন লেনদেনের তথ্যও উঠে এসেছে। কিছু বারে অনৈতিক কার্যক্রমের প্রমাণও মিলেছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সরকার এখন জিরো টলারেন্স নীতিতে যাচ্ছে। আইন মানবে না— এমন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলবে না।
তিনি আরও বলেন, যে কোনো প্রতিষ্ঠান সরকারি নীতিমালা অমান্য করলে লাইসেন্স বাতিল থেকে শুরু করে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা—সবকিছু নেওয়া হবে।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বার ও ক্লাবগুলোর লাইসেন্স নবায়নের সময় তাদের নিয়মিত কর পরিশোধ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম, এবং সদস্যদের তথ্য হালনাগাদ—এসব বিষয় কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। প্রয়োজনে হঠাৎ পরিদর্শন চালানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইউডি/কেএস

