এবার এয়ারবাস কিনতে ইউরোপীয় চাপ
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার (৫ নভেম্বর) ২০২৫, আপডেট ০০:৫০
ইউরোপে কয়েক বিলিয়ন ইউরোর বাংলাদেশি পণ্যের বাজার, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ, ব্রিটেনের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এবং দীর্ঘ অংশীদারত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন ইউরোপের চার রাষ্ট্রদূত।
রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ারলাইন বিমানের জন্য উড়োজাহাজ কেনার যে আলাপ চলছে, সেখানে ইউরোপীয় কোম্পানি এয়ারবাসকে রাখার চাপ বাড়ছে সরকারের ওপর।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ফ্রান্স দূতাবাসে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতরা একযোগে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, উড়োজাহাজ কেনার আলোচনায় যেন এয়ারবাসকে ‘যৌক্তিকভাবে’ বিবেচনা করা হয়।
তারা ইউরোপে কয়েক বিলিয়ন ইউরোর বাংলাদেশি পণ্যের বাজার, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ, ব্রিটেনের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এবং দীর্ঘ অংশীদারত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন বারবার।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার তার বক্তব্যের শেষে বলেছেন, “বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে বিপুল প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেই আলোচনার টেবিলে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অবশ্যই তার জায়গা করে দিতে হবে।”
ইউরোপের ব্যবসায়িক সংস্থাগুলো যেন বাণিজ্যিক যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা করতে পারে, সেই ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ইইউ রাষ্ট্রদূত।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছর চেয়ারে বসেই যে বাণিজ্য যুদ্ধের সূচনা করেছিলেন, তার প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। ডনাল্ড ট্রাম্পের ৩৫ শতাংশ শুল্কের খড়গ থেকে বাঁচতে গত জুলাই মাসে অন্তর্বর্তী সরকার মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে।
তবে ফ্রান্সের কোম্পানি এয়ারবাস থেকে বিমানের জন্য ১০টি বড় উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এয়ারবাস কেনার ওই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ২০১৪ সালের অগাস্টে সরকার বদলের পর সে উদ্যোগে তেমন কোনো গতি দেখা যায়নি।
বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ট্রাম্পের চাপের মুখে গত জুলাই মাসে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান আগের সিদ্ধান্ত বদলের কথা জানান। বিমানের জন্য ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার অর্ডার করার কথাও তিনি জানান।
এরপর ইউরোপও নড়েচড়ে বসে। এয়ারবাস বিক্রির জন্য তারাও চাপ দিতে থাকে সরকারের ওপর।
গত জুন মাসেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ব্রিটেন সফরে গেলে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এয়ারবাসের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ভাউটার ভ্যান ভার্স। এর পর থেকে কোম্পানির প্রতিনিধিরা সরকারের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ রেখে চলেছেন।
তবে এয়ারলাইন্স ব্যবসায় উড়োজাহাজের প্রয়োজন হলে সেই চাহিদা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির তরফ থেকে আসার নিয়ম রয়েছে। এখানে যার জন্য উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে, সেই বিমানকেই রাখা হচ্ছে অন্ধকারে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে মঙ্গলবার ‘ইউরোপিয়ান অ্যাম্বাসেডর্স ডায়ালগ অন বাংলাদেশ এভিয়েশন গ্রোথ’ শীর্ষক আলোচনায় যুক্ত হন চার রাষ্ট্রদূত। পাশাপাশি সেখানে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের প্রবৃদ্ধি ও এয়ারবাস নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন এয়ারবাস কর্মকর্তারা।
ইউডি/এবি

