জাতিসংঘে আওয়ামী লীগের চিঠিতে ‘কোনো কাজ হবে না’: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ২০২৫, আপডেট ১৯:৩০
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে কারিগরি সহযোগিতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ যে চিঠি দিয়েছে, তাতে কোনো ‘উপকার হবে না’ বলে মনে করছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তিনি চিঠির বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “এ ধরনের চিঠিতে কোনো কাজ হবে না। নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়।”
বাংলাদেশে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নয়’ এমন নির্বাচনে সহযোগিতা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে গত শনিবার জাতিসংঘকে চিঠি পাঠিয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ।
ঢাকায় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বরাবর দলের পক্ষে এ চিঠি পাঠান সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকছে না আওয়ামী লীগের।
জাতিসংঘকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, “অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা জাতিসংঘ এবং ইউএনডিপির প্রতি নির্বাচনি সহযোগিতা স্থগিতের, সব রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে জাতীয় সংলাপ ও সমঝোতাকে উৎসাহিত করার এবং যে কোনো নির্বাচনি সম্পৃক্ততার মূলভিত্তি হিসাবে মানবাধিকার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।”
‘বাংলাদেশে ইউএনডিপির নির্বাচনি সহযোগিতা এবং জাতিসংঘ সনদের নিরপেক্ষতা, রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এবং মৌলিক অধিকারের মূলনীতি লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ’ শীর্ষক চিঠিতে বলা হয়, “বাংলাদেশে ইউএনডিপির নির্বাচনি সহযোগিতা, ব্যালট প্রজেক্ট এবং আসন্ন নির্বাচনের বিষয়ে সংস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার বিষয়ে আমরা গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করছি, যে নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলকও নয়, বিশ্বাসযোগ্যও নয়।
“এই ধরনের সম্পৃক্ততা আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের মূলনীতি এবং অবাধ, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রসারের ক্ষেত্রে ইউএনডিপির ম্যান্ডেট লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করে।”
‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য’ নির্বাচনের পরিবেশের দাবি নিয়ে জাতিসংঘে উদ্বেগ জানানো আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে টানা দেড় দশক ক্ষমতায় থাকার অভিযোগ রয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সালে সংবিধান সংশোধন করে সেই ব্যবস্থাই বাতিল করে দেয় আওয়ামী লীগ সরকার।
সে অনুযায়ী ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা হয় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়।
ইউডি/এবি

