রাজশাহীতে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ, বেশি ছড়াচ্ছে সমকামী সম্পর্কে

রাজশাহীতে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ, বেশি ছড়াচ্ছে সমকামী সম্পর্কে

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৫, আপডেট ১৮:০৫

রাজশাহীতে এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২৮ জনের দেহে এইচআইভি ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন একজন হিজড়াও। এ সময়ের মধ্যে এইডসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজশাহীতে যৌনকর্মীদের তুলনায় সমকামী সম্পর্কের মাধ্যমেই এই ভাইরাস দ্রুত ছড়াচ্ছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রয়েছে একটি এইচআইভি টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং (এইচটিসি) সেন্টার, যেখানে পরীক্ষা ও কাউন্সেলিং সেবা দেয়া হলেও ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। ফলে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য বগুড়ায় যেতে হয়। তবে রামেকে একটি চিকিৎসা কেন্দ্র (এআরটি সেন্টার) চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা দ্রুত সময়ের মধ্যেই চালু হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।

রামেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে এ বছরের অক্টোবর পর্যন্ত রাজশাহীতে মোট ৯৩ জন এইচআইভি আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৮ জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন। চলতি বছর অক্টোবর পর্যন্ত ২ হাজার ৩৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়; এর মধ্যে ২৫ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ১ জন হিজড়ার শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হয়। আক্রান্তদের বেশিরভাগের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন এই সেন্টারে এসে পরীক্ষা করান। কাউন্সেলররা জানান, এইচআইভি এখন আর মৃত্যুদণ্ড নয়; নিয়মিত ওষুধ সেবন ও চিকিৎসা নিলে রোগীরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

এদিকে রাজশাহীতে ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকায় এইচআইভি পজিটিভ রোগীদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে যেতে হয়, যেখানে বিনামূল্যে ওষুধ দেয়া হয়।

রামেকে ২০১৯ সালে এইচআইভি পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম বছর ৭৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে কোনো পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়নি। পরের বছর দুজন আক্রান্ত হন। এরপর ২০২১ সালে ৮ জন, ২০২২ সালে ৮ জন, ২০২৩ সালে ২৪ জন, ২০২৪ সালে ২৭ জন এবং ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ২৮ জনের দেহে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালে শনাক্ত ২৭ জনের মধ্যে ১৬ জন সমকামী সম্পর্কের মাধ্যমে, ১০ জন যৌনকর্মীর মাধ্যমে এবং ১ জন রক্তের মাধ্যমে সংক্রমিত হন। চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত শনাক্ত ২৮ জনের মধ্যে ১৭ জন সমকামী সম্পর্কের মাধ্যমে, ১০ জন যৌনকর্মীর মাধ্যমে ও ১ জন রক্তের মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছেন।

রামেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারের কাউন্সেলর রেজাউল করিম বলেন, ‘২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৪৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৩ জনের দেহে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। অনেক রোগীই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন; কেউ কেউ আত্মহত্যার কথাও ভাবেন। আমরা নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তাদের মানসিকভাবে দৃঢ় থাকতে সহায়তা করছি।’

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading