তথ্য প্রযুক্তির অলিম্পিক ওয়েবসামিটের বৈচিত্র্যে অগ্রগামী বিশ্ব
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৫, আপডেট ০৯:২০
প্রতিবছরের ন্যায় শুরু হয়েছে তথ্য প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সম্মেলন লিসবন ওয়েব সামিট যাকে এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা তথ্য প্রযুক্তির অলিম্পিক হিসেবে আখ্যা প্রদান করেন। কেননা এটি একটি সম্মেলন নয় বরং একসাথে হাজারো সম্মেলন বলা চলে। ঠিক একই সময়ে বড় পরিসরে অন্তত ১৫-১৬টি স্টেজে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা বক্তব্য প্রদান করেন। একইসঙ্গে বিশ্বের সেরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বা গত কয়েকদিন আগে শুরু হওয়া নতুন স্টার্টআপও একই ছাদের নিচে অবস্থান করে।
লিসবনে ওয়েব সামিট ২০২৫-এর আসর টেক দুনিয়ায় এক নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে। যেখানে ১৫৭টি দেশ থেকে ৭১,৩৮৬ জন অংশগ্রহণ করেন এবং ৮৬টি দেশ থেকে ১,৮৫৭ জন বিনিয়োগকারী যোগ দেন, যা এ পর্যন্ত এই সম্মেলনের সর্বোচ্চ সংখ্যক বিনিয়োগকারী উপস্থিতি। বিশ্বজুড়ে ১০৮টি দেশ থেকে ২,৭২৫টি স্টার্টআপ তাদের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নিয়ে অংশ নেয়, যার মধ্যে প্রায় ৪০% নারী উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠিত, যা প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নারী নেতৃত্বকে অভূতপূর্বভাবে তুলে ধরেছে।
এবারের ওয়েব সামিটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিংকে কেন্দ্র করে সর্বাধিক সংখ্যক স্টার্টআপ উপস্থাপিত হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য প্রযুক্তি, ফিনটেক, ও টেক-ইকোসিস্টেমে টেকসই উন্নয়নকেও জোর দেওয়া হয়। মোট ৮৬৯ জন বক্তা প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ, এআই নিয়ন্ত্রণ, কোডিং অটোমেশন এবং ডেটা প্রাইভেসি ইস্যুতে আলোচনায় অংশ নেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মারিয়া শারাপোভা, ক্রিশ্চিয়ানো আমন (কোয়ালকম), এবং অ্যালেক্স শুল্টজ (মেটা)।
প্রায় ৪০০টি কারিগরি ও ভিন্নধর্মী এক্সক্লুসিভ মিটআপ এই সামিটকে বৈচিত্র্যপূর্ণ ও কার্যকর করেছে। সামিট-পরবর্তী রিপোর্টে দেখা গেছে, ২০০টি স্টার্টআপ প্রায় ৭১৫.৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে — যা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন। পাশাপাশি, প্রায় ৩০টি সামাজিক কর্মসূচি ও কমিউনিটি ইনিশিয়েটিভ সম্মেলনে অন্তর্ভুক্ত হয়, যেখানে ‘ইমপ্যাক্ট’ প্রোগ্রামের আওতায় চারটি সংগঠন বিশেষভাবে পুরস্কৃত হয়।
ওয়েব সামিট ২০২৫ প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও সামাজিক উদ্ভাবনের এক অনন্য মঞ্চ তৈরি করেছে। সম্মেলনের অংশ হিসেবে চীনা কোম্পানির এআই ও রোবোটিক্স উন্নতি, বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ এবং উদ্যোক্তা কমিউনিটির বৈচিত্র্য সুস্পষ্টভাবে উঠে আসে। পরবর্তীতে এই শীর্ষ সম্মেলন শুধুমাত্র প্রযুক্তির অগ্রসরতা নয়, বরং বৈশ্বিক সংযোগ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক পরিবর্তনের মঞ্চ হিসেবেও সাফল্য পেয়েছে।
ইউডি/কেএস

