আজ পুরুষের দিন
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১২:১০
বিশ্বজুড়ে রোজই কোনো না কোন দিবস পালিত হচ্ছে। তবে আজকে দিবসটির কথা অনেকেই জানেন না। আজ ১৯ নভেম্বর আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস। বেশিরভাগ পুরুষের কাছে দিবসটি অপ্রয়োজনীয়, হাস্যরসের বিষয় হলেও এর গুরুত্ব কোনো অংশে কম নয়।
পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ, রাষ্ট্র, পুরো পৃথিবীতেই একজন পুরুষ অনেক ইতিবাচক ভূমিকা রাখেন। সেই অবদানকে সম্মান জানানোর জন্যই আজকের দিন। এ বছর পুরুষ দিবসটির থিম ‘সেলিব্রেটিং মেন অ্যান্ড বয়েজ’ বা ‘পুরুষ ও ছেলেদের উদ্যাপন’। অর্থাৎ পুরুষ ও ছেলেদের ভালো দিক, ইতিবাচক ভূমিকা ও তাদের কাজগুলোকে আজ উদযাপন করার দিন।
পাশাপাশি বিশ্বের অনেক দেশে আরেকটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। সেটি হলো ‘সাপোর্টিং মেন অ্যান্ড বয়েজ’। এর অর্থ হলো- পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য, চাপ, দুঃখ বা আবেগের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। তাদেরও সাপোর্টের প্রয়োজন হয়। তাই পাশে থাকুন।
পুরুষ দিবসের সূচনা যেভাবে
এই দিবসটি প্রথম শুরু হয় ট্রিনিডাড ও টোবাগোতে। যার মূল লক্ষ্য ছিল লিঙ্গ নিয়ে আলোচনায় ভারসাম্য আনা। শুধু নারীর সমস্যাই নয়, পুরুষদের অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ নিয়েও আলোচনা করা।
একজন পুরুষ রোজ অনেক কাজ করেন। চাপ সামলান। তারও দুঃখ হয়। মন ভাঙে। তারও কষ্ট হয়। কিন্তু পুরুষত্ব প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি সেসব চেপে যান। ফলে শরীর আর মন দুইয়েরই ক্ষতি হচ্ছে। এই দিনটি তাদের সেই নীরব সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলার।

পুরুষ দিবস পালনের প্রস্তাব প্রথম আসে ১৯৯৪ সালে। তবে এর ইতিহাস আরও পুরনো। ১৯২২ সাল থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নে রেড আর্মি অ্যান্ড নেভি ডে হিসেবে দিনটি পালিত হত। মূলত পুরুষদের বীরত্ব ও ত্যাগের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য এই দিনটি উদযাপিত হতো।
২০০২ সালে দিনটির নামকরণ করা হয় ‘ডিফেন্ডার অফ দ্য ফাদারল্যান্ড ডে’। সেসময় রাশিয়া, ইউক্রেনসহ সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে দিবসটি পালন করা হতো। নারী দিবসের মতোই এটি পুরুষদের সম্মান জানানোর একটি বিশেষ দিন ছিল এটি।
১৯৬০-এর দশক থেকেই পুরুষ দিবস নিয়ে লেখালেখি শুরু হয়। ১৯৬৮ সালে আমেরিকান সাংবাদিক জন পি হ্যারিস লেখায় এই দিবস পালনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
নব্বই দশকের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও মাল্টায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ফেব্রুয়ারিতে পুরুষ দিবস উদযাপন শুরু করে। তবে সেই অনুষ্ঠানগুলো তেমন পরিচিতি পায়নি। পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, প্রতি বছর ১৯ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে পুরুষ দিবস পালন করা হবে।
১৯৯৯ সাল থেকে দিবসটি নিয়মিত পালন হয়ে আসছে। তবে আমাদের দেশে মাত্র দুই বছর হলো আলোচনায় এসেছে এই পুরুষ দিবস। একটি ছোট আয়োজন থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ আজ ছড়িয়ে পড়েছে ৮০টির বেশি দেশে।
পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য ও আবেগিক সুস্থতা নিয়ে সাধারণত খুব কমই আলোচনা হয়। আজকের দিনে আপনার পাশে থাকা পুরুষদের প্রশংসা করুন। তাদের মনের কথা জানুন। তাদের ভালো কাজের প্রশংসা করুন।
ইউডি/রেজা

