বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ নারীই সহিংসতার শিকার: ডব্লিউএইচও
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১২:৫৫
বিশ্বের প্রতি তিনজন নারীর একজন জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে সঙ্গীর দ্বারা নির্যাতন কিংবা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮৪ কোটি নারী এমন সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও)। খবর আলজাজিরার।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত এক বছরে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সি ৩১ কোটি ৬০ লাখ নারী ও কিশোরী তাদের ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর দ্বারা শারীরিক কিংবা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এটি বিশ্বব্যাপী এই বয়সের সব নারী ও কিশোরীদের প্রায় ১১ শতাংশ।
ডব্লিউএইচও’র মহাপরিচালক টেডরস আধানম গেব্রিয়েসুস এক বিবৃতিতে বলেছেন, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা মানবতার ইতিহাসে অন্যতম আদি ও মারাত্মক অবিচার। অথচ এখনো এটি সবচেয়ে কম গুরুত্ব পাওয়া সমস্যাগুলোর একটি।”
তিনি আরেও বলেন, কোনো সমাজ নিজেকে ন্যায়সংগত, নিরাপদ বা সুস্থ বলতে পারে না যখন তার অর্ধেক জনসংখ্যা ভয়ের মধ্যে বাস করে। এই সহিংসতার অবসান কেবল নীতির বিষয় নয়; এটি মর্যাদা, সমতা এবং মানবাধিকারের বিষয়। প্রতিটি পরিসংখ্যানের পিছনে একজন নারী বা মেয়ে থাকে যার জীবন চিরতরে পরিবর্তিত হয়েছে।”
নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূলে আন্তর্জাতিক দিবস সামনে রেখে জাতিসংঘের প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০০০ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ১৬৮টি দেশ থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা ‘একটি গভীরভাবে অবহেলিত সংকট’ হিসেবে রয়ে গেছে, যেখানে এই সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা ‘গুরুতরভাবে অপ্রতুল’।
সংস্থাটির তথ্য মতে, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে ২০২২ সালে বৈশ্বিক বৈদেশিক সাহায্যের মাত্র ০.২ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছিল। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদেশি সাহায্য কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এই বছর এ বরাদ্দ আরও হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে আরো বলেছে, যুদ্ধ, দীর্ঘস্থায়ী সংকট, বাস্তুচ্যুতি, পরিবেশগত অবনতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদি সবকিছু মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর নারী ও শিশুদের নিরাপত্তাহীনতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইউডি/রেজা

