‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপহীন’ আঞ্চলিক সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ: খলিলুর
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) ২০২৫, আপডেট ২৩:৩০
ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে ‘খোলামনে’ কাজ করার গুরুত্বের কথা বলেছে বাংলাদেশ।
একইসঙ্গে সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার বিষয়ও বৃহস্পতিবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের (সিএসসি) সভায় মনে করিয়ে দিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান।
সিএসসির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের ওই সভার স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, “ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সব সদস্যের অভিন্ন সমৃদ্ধির জন্য অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক অঞ্চলের কথা তুলে ধরে কনক্লেভের যে মূল্যবোধ ও নীতি, বাংলাদেশ তাতে অবিচল রয়েছে।
“আর সেটা কনক্লেভ সনদের সার্বভৌমত্ব, সমতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ভিত্তিতে।”
পরে আলোচনা পর্বে বাংলাদেশের বিবৃতি তুলে ধরে খলিলুর বলেন, “বাংলাদেশ কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে এবং সংস্থার সনদে বর্ণিত মূলনীতির ভিত্তিতে ভবিষ্যতেও অংশ নেবে। যেগুলো হচ্ছে- সার্বভৌমত্ব, সমতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা।”
আয়োজক ইন্ডিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের আমন্ত্রণে সিএসসির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের সভায় যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। অজিত দোভাল এ সভায় সভাপতিত্ব করেন।
ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশের সঙ্গে সিএসসির সদস্য দেশ মালদ্বীপ, মরিশাস ও শ্রীলঙ্কার নিরাপত্তা উপদেষ্টারা এ সভায় যোগ দেন। সপ্তম এ সভায় সিসেলস পর্যবেক্ষক দেশ ও মালয়েশিয়া অতিথি হিসেবে অংশ নেয়।
সম্মেলনে বিবৃতিতে খলিলুর বলেন, “কনক্লেভের কাজের ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত পাঁচটি স্তম্ভের গুরুত্ব এবং এই অঞ্চলের সদস্যদের সমন্বিত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং অভিন্ন সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সিএসসির এসব স্তম্ভ যে ভূমিকা রাখতে পারে, তা বাংলাদেশ স্বীকার করে।
“বাংলাদেশ এক্ষেত্রে অবিচলভাবে দ্বৈত ভূমিকা পালন করছে। মেরিটাইম নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, জলদস্যুতা, অন্যান্য সংঘবদ্ধ মেরিটাইম অপরাধ এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছি।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ অব্যাহতভাবে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের নিন্দা জানিয়ে আসছে। যেকোনো প্রেক্ষাপটে যেকোনো সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের শুন্য-সহিষ্ণুতা নীতি রয়েছে। ডিজিটালাইজেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ প্রযুক্তিগত বিভিন্ন উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে সাইবার অপরাধের আপদ আমাদের সব দেশকে আঘাত করছে। এ কারণে সাইবার নিরাপত্তা বাংলাদেশের উচ্চ অগ্রাধিকারে রয়েছে।
ইউডি/এবি

