চেতনানাশক খাইয়ে মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১৭:৩৫
ফরিদপুরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ঘুরতে নিয়ে পানির সঙ্গে চেতনানাশক ঔষধ খাইয়ে অচেতন করে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ওই কিশোরী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে
বুধবার (১৯ নভেম্বর) ফরিদপুর শহরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ভুক্তভোগী কিশোরী মধুখালী উপজেলার একটি মাদ্রাসায় ৮ম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে।
জানা গেছে, এক বছর আগে মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে ওই কিশোরীর সঙ্গে পরিচয় হয় মধুখালী উপজেলার মেছোরদিয়া গ্রামের শাহেদ মোল্যার ছেলে সজিব মোল্যার (২৪)। এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তারা। সেই সুবাদে বুধবার (১৯ নভেম্বর) ফরিদপুর শহরে ঘুরতে আসেন তারা এবং একপর্যায়ে পানির সঙ্গে চেতনানাশক ঔষধ খাইয়ে অচেতন অবস্থায় অজ্ঞাত একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করে ওই কিশোরীকে সজিব মোল্যা। এরপর অসুস্থ অবস্থায় ওই কিশোরীকে সজিব বাসে করে মধুখালী নিয়ে যায়। বাসস্ট্যান্ডে নেমে ওই কিশোরীকে একটি অটোযোগে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। বাড়িতে যাওয়ার পর কিছুটা স্বাভাবিক হলে ওই কিশোরী বিষয়টি বুঝতে পারে এবং পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। পরে ওই কিশোরীকে পরিবারের সদস্যরা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কিশোরী ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘প্রেমের সম্পর্কের কারণে গত বুধবার দুপুরে ফরিদপুরে আমরা ঘুরতে আসি। আমার সঙ্গে আরেকজন বান্ধবীও ছিল, পরে আমার বান্ধবীকে বাসে পাঠিয়ে দেয় সজিব। একপর্যায়ে বিকালে শহরের বেইলী ব্রিজের ওপর দাঁড়ানো অবস্থায় আমি পানি খেতে চাইলে ওর কাছে থাকা পানির বোতল বের করে দেয়।’
ওই কিশোরী আরও বলেন, ‘পানি খাওয়ার পর আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে সজিব একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যায় এবং আমাকে ধর্ষণ করে। এরপর অসুস্থ অবস্থায় আমাকে একটি অটোতে করে মধুখালী পাঠিয়ে দেয়। পরে আমি বাবা-মায়ের কাছে সব খুলে বলি এবং রাতেই আমাকে হাসপাতালে এনে ভর্তি করে।’
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান জানান, বিষয়টি জানতে পেরে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং পরিবারকে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইউডি/রেজা

