ইউক্রেনের সামনে কঠিন ২৪ দফা অথবা ভয়াবহ শীতকাল: জেলেনস্কি

ইউক্রেনের সামনে কঠিন ২৪ দফা অথবা ভয়াবহ শীতকাল: জেলেনস্কি

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১২:০৫

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তার দেশ এখন ইতিহাসের ‘সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোর’ একটির মুখোমুখি। তিনি সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধের জন্য যে শান্তি পরিকল্পনা আনা হয়েছে, তা রাশিয়ার অনুকূলে যাবে।

জেলেনস্কির মতে, মার্কিন প্রস্তাব মেনে নিলে ইউক্রেনকে দেশের আত্মমর্যাদা হারাতে হবে, না মেনে নিলে দীর্ঘদিনের মিত্র (যুক্তরাষ্ট্র) হারানোর ঝুঁকি নিতে হবে। ইউক্রেনকে যেকোনো একটি কঠিন সিদ্ধান্তের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। খবর আরটির।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কিয়েভ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইউক্রেনকে গোয়েন্দা ও সামরিক সহায়তা থেকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছে।

শুক্রবার জেলেনস্কি একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘ইউক্রেনের ওপর এখন অনেক চাপ। আমরা এখন একটি কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন— যুক্তরাষ্ট্রের ‘কঠিন ২৮ দফা’ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হলে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাত বৃদ্ধির পর থেকে ইউক্রেনের জন্য ‘সবচেয়ে কঠিন শীতকাল’ আসতে পারে।

বৃহস্পতিবার কিয়েভ ওয়াশিংটনের কাছ থেকে নতুন প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, কিন্তু এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করতে প্রকাশ করেনি।

মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে, শান্তি পরিকল্পনায় ২৮ দফা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে রাশিয়া ইউক্রেনের ডনবাসের যে অংশগুলো এখনও নিয়ন্ত্রণ করে সেখান থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহার, দেশের সামরিক বাহিনীর আকার কমানো এবং পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগদানের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করা। কিয়েভকে রাশিয়ান ভাষাকে একটি সরকারি ভাষা করতে হবে বলেও জানা গেছে। বিনিময়ে, ইউক্রেনকে সম্ভবত পশ্চিমা নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেওয়া হবে।

জাতির উদ্দেশ্যে শুক্রবারের ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন শান্তভাবে এবং দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে, যাতে ‘ইউক্রেনের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া হয়’।

জেলেনস্কি বলেন, তিনি এই পরিকল্পনার বিষয়ে একটি বিকল্প পথ খুঁজে বের করতে কাজ করছেন। কিন্তু তিনি কখনোই দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না। তিনি বলেন, “আমি যুক্তি উপস্থাপন করব, আমি বোঝাব, আমি বিকল্প প্রস্তাব দেব, কিন্তু আমরা শত্রুকে কখনোই এই বলার সুযোগ দেব না যে ইউক্রেন শান্তি চায় না।”

ট্রাম্পের প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ হওয়ার পর বেশ কয়েকজন ইউরোপীয় নেতা ইউক্রেনের সমর্থনে কথা বলেছেন। তারা কিয়েভের পাশে থাকার এবং ইউক্রেনের অংশগ্রহণ ছাড়া দেশটির ভাগ্য নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয় বলেও জোর দিয়েছেন।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading