দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায়, ডিসেম্বরে শৈত্যপ্রবাহের আভাস
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১০:৫৮
পঞ্চগড়ে উত্তরের হিম বাতাস জানান দিচ্ছে শীত তার ডেরা বাঁধতে শুরু করেছে। হু-হু করে নামছে তাপমাত্রা। দিনের বেলা রোদ ঝলমলে ও গরম আবহাওয়া থাকলেও রাত হলেই নেমে আসছে শীতের কাঁপুনি। তবে ডিসেম্বরের শুরুতেই শৈতপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকাল ৯টায় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ১২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এর আগে সকাল ৬টায় ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।
হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এ জনপদে গত দশ দিন ধরে জেলাটিতে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলেও রাতের তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করছিল ১৪ থেকে ১৬ ডিগ্রির ঘরে।
এর আগে, মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ছিল মৌসুমের অন্যতম কম তাপমাত্রা। তারও আগের দিন সোমাবার ছিল ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ধারাবাহিকভাবে তাপমাত্রার এই ওঠানামা শীতের অনুভূতিকে আরও তীব্র করেছে।
তবে রবিবার (২৩ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৭৬ শতাংশ; ভোর পর্যন্ত কুয়াশায় ঢেকে ছিল বিভিন্ন এলাকা। তবে বেলা বাড়তেই দেখা দেয় স্বচ্ছ আকাশ, তীব্র রোদ।
পঞ্চগড় শহরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দিনে রোদে হাঁটা দায় হয়ে যায়, মনে হয় গরমই পড়ছে। কিন্তু রাতে কমে যায় তাপমাত্রা, ঘুমোতে গেলে কম্বল ছাড়া উপায় থাকে না।’
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের আবহাওয়াবিদ জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, শীত নামতে শুরু করেছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই তাপমাত্রা আরও ৩–৪ ডিগ্রি কমতে পারে। উত্তরাঞ্চলে শৈতপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, দিনে গরমের কারণে মানুষজন এখনও পাতলা পোশাকেই স্বস্তি পাচ্ছে। তবে রাত হলেই গরম কাপড়, সোয়েটার ও কম্বলের ব্যবহার শুরু হয়েছে ঘরে ঘরে। শীতজনিত রোগের আশঙ্কায় অনেকেই সতর্ক হতে শুরু করেছেন। শীতের এমন বৈচিত্র্যময় আচরণে পঞ্চগড়বাসী এরইমধ্যে শীত মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।
ইউডি/রেজা

