নির্মাণ শ্রমিকদের সিগারেটের আগুনে হংকংয়ে অগ্নিকাণ্ড, সন্দেহ বাসিন্দাদের

নির্মাণ শ্রমিকদের সিগারেটের আগুনে হংকংয়ে অগ্নিকাণ্ড, সন্দেহ বাসিন্দাদের

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫, আপডেট ২০:৩৫

হংকংয়ের তাইপো এলাকার হং ফুক ইয়েন হাউজিং এস্টেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুরো হংকংজুড়ে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৮ জনে এবং এখনো দুই শতাধিক মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রী ক্রিস সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

গত বুধবার (২৬ নভেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৫১ মিনিটে এই ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের কারণ নিয়ে আবাসিক ও স্থানীয়দের মধ্যে জল্পনা-কল্পনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত কিছু ছবি ও ভিডিও ক্লিপ নেটিজেনদের মধ্যে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

একজন আবাসিক নেটিজেন সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ছবি পোস্ট করেছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে হাউজিং এস্টেটে বড় ধরনের মেরামতের কাজ চলার সময় নির্মাণ শ্রমিকরা কাজের স্থানের ওপর ধূমপান করছেন।

ওই নেটিজেন দাবি করেন, বড় ধরনের মেরামতের সময় অনেক কর্মীকে মচানে সিগারেট খেতে দেখা গেছে এবং তিনি এই সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও ক্লিপও প্রকাশ করেন। একটি ভিডিও ক্লিপে তাকে সরাসরি এক কর্মীকে ধূমপানের বিষয়ে প্রশ্ন করতেও শোনা যায়।

ঘটনাস্থলে পুলিশ আগুনের কারণ তদন্ত করছে। এলাকার কাউন্সিলর লি ম্যান কিট প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছেন, আগুন লাগার কারণ সম্ভবত মেরামত সামগ্রীতে আগুন লাগার সাথে সম্পর্কিত তবে, নির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।

কাউন্সিলর জানান, কয়েকশ বাসিন্দা তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর নথিভুক্ত করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্ট সেকশনে নেটিজেনদের আলোচনার বেশিরভাগেই শ্রমিকদের ধূমপানকে এই ভয়াবহ আগুনের প্রধান কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। একজন নেটিজেন এটিকে ‘সবচেয়ে জোরালো প্রমাণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং কঠোরভাবে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। কেউ কেউ সরকারের কাছে এই ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ‘হত্যার অভিযোগ’ আনারও পরামর্শ দিয়েছেন। একজন নেটিজেন সিগারেটের শেষ অংশ খুঁজে পেলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার দাবিও জানিয়েছেন। এই বিষয়ে পুলিশের তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।

তথ্যসূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, সান্ডেকিস

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading