সাড়া দিচ্ছেন খালেদা জিয়া, অপেক্ষায় নেতাকর্মী ও উৎসুক জনতা
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার (৩০ নভেম্বর) ২০২৫, আপডেট ২৩:৫৯
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তবে ওষুধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিছুটা সাড়া দিচ্ছেন বলে জানিয়েছে মেডিক্যাল বোর্ড সূত্র। এদিকে আজও হাসপাতাল আঙ্গিনায় ভিড় করছেন বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও উৎসুক জনতা। এদিকে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকে দোয়া মাহফিল অব্যাহত রয়েছে। তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
চিকিৎসার অগ্রগতি কতটুকু?
বিএনপির চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল রয়েছে। গত কয়েক দিন সবাই এ বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখছেন। আসলে চিকিৎসার অগ্রগতি কতটুকু? তিনি কী সেরে উঠবেন? এসব প্রশ্নের উত্তর শুনতে চান সবাই। যদিও মেডিক্যাল বোর্ডের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সরাসরি তেমন কিছু বলা হচ্ছে না। তবে রবিবার (৩০ নভেম্বর) মেডিক্যাল বোর্ডের বরাত দিয়ে দলীয় একটি সূত্র জানায়, চিকিৎসায় কিছুটা সাড়া দিচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
সূত্রটি আরও উল্লেখ করে, চিকিৎসকের ভাষায় যেকোনও রোগীর এরকম সময়ে এমনটি হলে আল্লাহর ওপর ভরসা ও আস্থা বৃদ্ধি পায় চিকিৎসকদের।
তাদের ধারণা, এভাবে হয়তো ধীরে ধীরে রোগীর অগ্রগতি হতে পারে। আমরা মনে করেন, দেশের অগণিত কোটি কোটি নাগরিকের বিশ্বাস খালেদা জিয়া আবারও সুস্থ হয়ে উঠবেন।
এ বিষয়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধায়নে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে সিসিইউ-তে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন খালেদা জিয়া। এখন পর্যন্ত এর বাইরে নতুন কোনও তথ্য নেই।’
সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে যা জানা গেল
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘অপরিবর্তিত’ রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকরা সর্বাক্ষণিক বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত আছেন। তাদের কাছ থেকে শুনেছি তার শারীরিক অবস্থা অবনতিশীল হয়নি। তাই বলে খুব একটা উন্নতি হয়েছে এরকমও আমরা খবর পাইনি। তার মানে শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে।’
নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়ছে
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ঘিরে এভারকেয়ারে প্রতিদিনই দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়ছে। তাদের বিস্তৃতি হাসপাতাল ফটক থেকে সামনের রাস্তার উভয় পাশেই ছড়িয়েছে। দলের দায়িত্বশীল নেতারা বারবার সরে যাওয়ার অনুরোধ করলেও তারা কথা শুনছেন না। রবিবার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে এমন চিত্র। তাদের নিবৃত করতে হিমশিম খাচ্ছেন নেতারা।
বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সুস্থতা কামনা
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি থেকে এভারকেয়ারের সামনে আসেন ষাটোর্ধ টিপু সুলতান। তিনি বুকে লেমেনিটিং কাগজে লিখেছেন-নিজের ফুসফুস দান করে বিএনপির চেয়ারপারসনকে সুস্থ করতে চান। তার মতে তার মতো ব্যক্তির চেয়ে খালেদা জিয়ার সুস্থ হয়ে ওঠা জরুরি।
এদিকে খালেদা জিয়ার খোঁজ খবর নিতে বিএনপির বাইরেও অন্যান্য দলের নেতারা যাচ্ছেন এভারকেয়ারে। রবিবার (৩০ নভেম্বরে) সেখানে গিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। এ সময় তিনি খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করেন।
এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তার সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
এর আগে রবিবার (২৩ নভেম্বর) রাত ৮টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করানোর পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ফুসফুস ও হার্টে সংক্রমণ হয়েছে।
বিএনপির চেয়ারপারসনের চিকিৎসায় অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকাদার ছাড়াও মেডিক্যাল বোর্ডে রয়েছেন অধ্যাপক এফএস সিদ্দিকী, ডা. জাফর ইকবাল, ডা. জিয়াউল হক, ডা. মামুন আহমেদ ও অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাইফুল ইসলাম।
ইউডি/এবি

