ইন্ডিয়াকে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি দিতে চায় রাশিয়া, ঘোষণা পুতিনের
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, আপডেট ০৮:০০
দু’দিনের ইন্ডিয়া সফরে এসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন, তার দেশ ইন্ডিয়াকে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ করতে প্রস্তুত। ইন্ডিয়াকে তাদের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়তে মস্কো দিল্লিকে সহায়তা করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
দুই শীর্ষ নেতার বৈঠকে উঠে এসেছে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গও।
তবে পুতিন-মোদি বৈঠকে যুদ্ধবিমান সরবরাহসহ কয়েকটি সামরিক চুক্তি হবে বলে মনে করা হলেও বিবিসির সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, সেরকম বড় কোনো চুক্তিই দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব ঘোষণা করেননি।
শুক্রবার দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ২৩তম ইন্ডিয়া-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী ও ভ্লাদিমির পুতিন। ওই বৈঠকের শেষে দুই নেতার সামনেই সংবাদ সম্মেলনে একাধিক সমঝোতাপত্র বিনিময় করেন ইন্ডিয়া ও রাশিয়ার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা।
সব সমঝোতাই বাণিজ্য বৃদ্ধির দিকে লক্ষ্য রেখে করা হয়েছে বলে বিবিসির সংবাদদাতারা জানিয়েছেন।
এসবের মধ্যে রয়েছে জাহাজ নির্মাণ, মেরু অঞ্চলের সমুদ্রে কাজ করার জন্য ইন্ডিয়ার নাবিকদের প্রশিক্ষণ, নতুন জাহাজ পথ গড়ে তুলতে বিনিয়োগ, বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাত প্রভৃতি।
দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষ করে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী ও ভ্লাদিমির পুতিন। তবে তারা সাংবাদিকদের কাছ থেকে কোনো প্রশ্ন নেননি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে ভাষণ দিতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদি জানান, পুতিনের সঙ্গে তার বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়েই আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে সব থেকে গুরুত্ব পেয়েছ অর্থনৈতিক সহযোগিতা।
ইন্ডিয়া ও রাশিয়া ২০৩০ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে। রাশিয়ায় ইন্ডিয়ার দুটি নতুন দূতাবাস খোলার সিদ্ধান্ত এবং দুটি নতুন পর্যটক ভিসা প্রকল্পও চূড়ান্ত হয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বলতে গিয়ে মোদি বলেন, “ইন্ডিয়া প্রথম থেকেই শান্তির পক্ষে থেকেছে, এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খোঁজার যে প্রচেষ্টা চলছে, তাতে অংশ নিয়েছে।
মোদির কথায়, “ইউক্রেন সংকটের পর থেকে আমাদের মধ্যে সব সময় কথা হয়। আপনিও (পুতিনকে উদ্দেশ্য করে) প্রকৃত বন্ধুর মতো প্রতিটা বিষয় আমাকে জানিয়েছেন। এই পারস্পরিক বিশ্বাসই আমাদের সম্পর্কের বড় শক্তি।”
“আমাদের সবার মিলিতভাবে শান্তির পথ খোঁজা উচিত। সম্প্রতি সেই প্রচেষ্টা চলছে। আমার ভরসা আছে যে বিশ্ব আবারও শান্তির পথে ফিরে আসবে। আমি বারবার বলেছি যে ভারত নিরপেক্ষ নয়। ভারতেরও পক্ষপাতিত্ব আছে এবং সেটা শান্তির পক্ষে। আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠার সব প্রচেষ্টাকে সমর্থন করব” বলেছেন নরেন্দ্র মোদি।
এরপরে তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইন্ডিয়া এবং রাশিয়া দীর্ঘ সময় ধরে একে অপরকে সমর্থন দিয়ে এসেছে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে।”
ইন্ডিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে ‘যাতায়াত’ বৃদ্ধি করা তাদের কাছে ‘অতি গুরুত্ব’ পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন মোদি।
পারমাণবিক বিদ্যুতের প্রসঙ্গে নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে “জ্বালানি নিরাপত্তা এক অতি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।”
ইউডি/কেএস

